রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
সুযোগ হাতছাড়া •

ব্যাটিং ধসে আফগানদের স্বস্তি, বড় সংগ্রহের সুযোগ হারাল বাংলাদেশ


আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ ও লিটন দাসের ৫৩ রানের পরও শেষ দিকে ব্যাটিং ধসে পড়ে দল। জবাবে প্রথম সেশন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৪ রান। হাসান মাহমুদ সেদিকউল্লাহ আতালকে ফেরালেও একটি রিভিউ নষ্ট ও নিশ্চিত উইকেটের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ।

১০ অক্টোবর ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ 

ব্যাটিং ধসে আফগানদের স্বস্তি, বড় সংগ্রহের সুযোগ হারাল বাংলাদেশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে প্রথম দিন ব্যাট হাতে ভালো অবস্থানে থাকলেও শেষ দিকে একের পর এক উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ গড়ার সুযোগ হাতছাড়া করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম সেশন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ১ উইকেটে ৩৪ রান।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুতে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান ছিল বাংলাদেশের। আগের দিনের সংগ্রহ আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামেন নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম। তবে দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মোহাম্মদ সালিম সাফির শর্ট বলে আউট হন তাইজুল, দলের স্কোরে যোগ করতে পারেন মাত্র ৯ রান। এরপর নাঈম হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি দলের শেষ ব্যাটাররা। ৯২.৩ ওভারে ৩৪৬ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন নাঈম।

বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল আশাব্যঞ্জক। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাদমান ইসলাম মিলে গড়েন ১২৪ রানের জুটি। ৭১ বলে ৮৩ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন তানজিদ, আর সাদমানের ব্যাট থেকে আসে ৬৭ রান। এরপর মুমিনুল হকের ৩৯ এবং লিটন দাসের ৫৩ রান দলকে বড় সংগ্রহের পথে রাখে।

কিন্তু দুইশ রান পেরোনোর পর চিত্র বদলে যায়। দ্রুত উইকেট হারাতে থাকায় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম কোনো রান না করেই ফেরেন সাজঘরে, অধিনায়ক শান্ত করেন ২৯ রান। মেহেদী হাসান মিরাজের ২৪ রানও দলের সংগ্রহ আরও সমৃদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট হয়নি। একপর্যায়ে ২ উইকেটে ২২১ রান করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বাকি ১২৫ রান তুলতেই হারায় ৮ উইকেট।

আফগানিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ সালিম সাফি। ৮২ রান খরচায় চারটি উইকেট নেন তিনি। ইয়ামিন আহমদজাই তিনটি, ইসমত আলম দুটি এবং কাইস আহমেদ একটি উইকেট শিকার করেন।

৩৪৬ রানের লক্ষ্য নয়, বরং এই মাঠের প্রথম ইনিংসে গড় দলীয় সংগ্রহ প্রায় ৩৬০ রান হওয়ায় বাংলাদেশের স্কোর নিয়ে কিছুটা আক্ষেপ থাকছেই। ভালো শুরুর পরও ব্যাটিং ধসের কারণে প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি দল।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানকে শুরুতেই চাপে রাখার চেষ্টা করেন বাংলাদেশের বোলাররা। হাসান মাহমুদ সেদিকউল্লাহ আতালকে ফিরিয়ে উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন। ৩১ বলে তিনটি চারে ১৭ রান করেন আতাল। তার বিদায়ে ৬২ বল স্থায়ী ৩০ রানের জুটির সমাপ্তি ঘটে।

তবে আতালের উইকেট পাওয়ার আগেই একটি রিভিউ নষ্ট করে বাংলাদেশ। হাসানের বলে এলবিডব্লিউর আবেদনে অধিনায়ক শান্ত রিভিউ নিলেও সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের পক্ষে আসেনি। পরের বলেই আতাল লিটন দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দেন। এবার জোরালো আবেদন করেও রিভিউ নেয়নি বাংলাদেশ। পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটের কানায় লেগে লিটনের হাতে জমা পড়েছিল। ফলে নিশ্চিত একটি উইকেট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় বাংলাদেশের।

প্রথম সেশন শেষে ১ উইকেটে ৩৪ রান নিয়ে ব্যাট করছে আফগানিস্তান। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করলেও রিভিউয়ের ভুল সিদ্ধান্ত এবং উইকেটের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা দলটির জন্য কিছুটা হতাশার কারণ হয়ে আছে।