মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬
ঘুরে দাঁড়ানো •

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়


ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে টানা তিন হারের পর ভারত চ্যাম্পিয়নসকে ৩ রানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। শারজাহতে প্রথমে ব্যাট করে ১৪১ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ভারত ১৩৮ রানে থেমে যায়। বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রাখেন এনামুল হক জুনিয়র, মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। আবু জায়েদ রাহী নেন ২ উইকেট।

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ 

ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয়
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

টানা তিন ম্যাচে হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসের (ডব্লিউসিএল) মঞ্চে শক্তিশালী ভারত চ্যাম্পিয়নসকে ৩ রানে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। বাংলাদেশের এই জয়ে বল হাতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন এনামুল হক জুনিয়র। তাঁর দুর্দান্ত স্পিনে দিশেহারা হয়ে পড়ে যুবরাজ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যর্থ হয় ভারত। ৮ উইকেটে ১৩৮ রানেই থেমে যায় তাদের ইনিংস।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ইমরুল কায়েসকে হারায় বাংলাদেশ। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে দ্রুত রান তুলতে থাকেন রনি তালুকদার। ২৫ বলে ৪০ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন তিনি। চারটি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো ছিল তাঁর ইনিংসটি।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফজলে মাহমুদ ৩, জহুরুল ইসলাম ৬ এবং অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন। কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন নাসির হোসেন ও আরাফাত সানি। নাসিরের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২৪ রান। অন্যদিকে, ৩৮ বলে ৩৭ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন আরাফাত। শেষ দিকে আবু জায়েদের ১০ রানের ইনিংসে লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।

১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে ভারত। আম্বাতি রাইডু মাত্র ৩ রান করে আউট হন। অধিনায়ক যুবরাজ সিং কোনো রান না করেই বিদায় নেন। রবিন উথাপ্পাও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। একপর্যায়ে মাত্র ৫৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় পড়ে ভারত।

পরে ইরফান পাঠান ও রিশি ধাওয়ান প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। পাঠান ৪১ বলে ২৪ এবং ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ রান করেন। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীযূষ চাওলার ব্যাটে জয়ের আশা জেগেছিল ভারতীয় শিবিরে। নেগি ১৪ বলে ২৬ এবং চাওলা ১৮ বলে ২৪ রান করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান ঘোচাতে পারেনি দলটি।

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন এনামুল হক জুনিয়র। মাত্র ১২ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে বড় ধাক্কা দেন তিনি। আবু জায়েদ রাহী ২৬ রান দিয়ে শিকার করেন ২ উইকেট। এ ছাড়া রুবেল হোসেন ও কামরুল ইসলাম একটি করে উইকেট পান।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা তিন হারের হতাশা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেল বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নস। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের নিয়ে গড়া ভারত চ্যাম্পিয়নসকে শেষ পর্যন্ত ৩ রানের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হলো।