ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি: ৪৮ ঘণ্টায় চুক্তি না হলে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’
২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক স্বর্ণাক্ষরে লেখা দিন হিসেবে চিহ্নিত হলো ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনের আওতায় চারজন নভোচারী এখন চাঁদের পথে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে মহাকাশযানটি পৃথিবী ছেড়ে মহাকাশের গভীর শূন্যতায় ডানা মেলে।
ঐতিহাসিক এই মিশনে অংশ নেওয়া চার নভোচারী হলেন:
রিড ওয়াইজম্যান: কমান্ডার (যুক্তরাষ্ট্র)
ভিক্টর গ্লোভার: পাইলট (যুক্তরাষ্ট্র) - চাঁদের অভিযানে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি।
ক্রিস্টিনা কচ: মিশন স্পেশালিস্ট (যুক্তরাষ্ট্র) - চাঁদের অভিযানে যাওয়া প্রথম নারী।
জেরেমি হ্যানসেন: মিশন স্পেশালিস্ট (কানাডা) - প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের পথে।
প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানে নভোচারীরা সরাসরি চাঁদের বুকে পা রাখবেন না। তাদের বহনকারী ‘অরিয়ন’ ক্যাপসুলটি চাঁদের কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবে। অনেকটা ১৯৬৮ সালের ঐতিহাসিক ‘অ্যাপোলো-৮’ মিশনের আদলে তৈরি এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা (Life Support System) এবং গভীর মহাকাশে মানুষের টিকে থাকার সক্ষমতা যাচাই করা।
নাসার বিশালাকার কমলা-সাদা রঙের ‘এসএলএস’ (Space Launch System) রকেটটি এই মিশনের প্রধান চালিকাশক্তি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের মধ্যে চাঁদে স্থায়ী মহাকাশ ঘাঁটি তৈরি এবং সেখানে নিয়মিত নভোচারী অবতরণ করানোর লক্ষ্যেই এই আর্টেমিস প্রকল্প সাজানো হয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ২০৩০-এর দশকে মঙ্গল গ্রহেও মানব অভিযান পরিচালনার স্বপ্ন দেখছে নাসা।
প্রযুক্তিগত বিভিন্ন ত্রুটির কারণে আর্টেমিস-২ মিশনের সময়সূচি বেশ কয়েকবার পিছিয়ে যায়, যা এই প্রকল্পকে বেশ ব্যয়বহুল করে তুলেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রশাসন মহাকাশ গবেষণায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের লক্ষ্য-তার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই যেন চাঁদের মাটিতে আবারও মার্কিন বুটের ছাপ পড়ে।
নাসার সহযোগী প্রশাসক অমিত ক্ষত্রিয় উৎক্ষেপণের আগে জানান, "মহাকাশযান এবং ক্রু উভয়ই এই রোমাঞ্চকর অভিযানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।" সব ঠিক থাকলে আগামী ১০ দিন পর প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণের মাধ্যমে শেষ হবে এই ঐতিহাসিক যাত্রা।