বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের উদ্যোগ


দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ডিজিটাল ঠিকানা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন ব্যবস্থায় নাগরিকদের ঠিকানা, ডিজিটাল পরিচিতি নম্বরের পাশাপাশি ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের তথ্যও যুক্ত করা হবে। ডাক অধিদপ্তরের প্রায় ৪০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:২৩ অপরাহ্ণ 

দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনতে সরকারের উদ্যোগ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ডিজিটাল ঠিকানা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের একটি ডিজিটাল পরিচিতি নম্বরের পাশাপাশি ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডাক অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ধাপে ধাপে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

দেশের কোনো নাগরিক যেন ঠিকানাবিহীন না থাকেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষের কাছে বার্তা বা সেবা পৌঁছে দেওয়া যায়- এ লক্ষ্যেই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনার কাজ করা হবে। চলতি বছরের মার্চে শুরু হওয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এর মধ্যে ডিজিটাল ঠিকানা তৈরির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি।

পোস্টম্যানের বিট থেকে তৈরি হবে ডিজিটাল মানচিত্র

প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার পোস্টম্যানদের নির্ধারিত বিট চিহ্নিত করা হবে। এসব বিটকে ভিত্তি করে তৈরি করা হবে ডিজিটাল মানচিত্র। এরপর প্রতিটি বিটের আওতায় থাকা পরিবার, বাড়ি এবং ডাক পৌঁছানোর নির্দিষ্ট স্থান বা ডেলিভারি পয়েন্ট শনাক্ত করে সেগুলোর তথ্য ডিজিটাল তথ্যভান্ডারে যুক্ত করা হবে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পোস্টম্যানদের নির্দিষ্ট ডেলিভারি বিট রয়েছে। একটি বিটের আওতায় কয়েকশ পরিবারও থাকতে পারে।

গ্রামাঞ্চলের ঠিকানা ব্যবস্থায় পরিবর্তন

দেশের অনেক শহর ও এলাকায় বাড়ি বা ভবনের নির্দিষ্ট নম্বর থাকলেও গ্রামাঞ্চলে এখনো ব্যক্তি, বাড়ির নাম কিংবা স্থানীয় পরিচিতির ওপর নির্ভর করে ঠিকানা শনাক্ত করা হয়। একই ধরনের নাম, অসম্পূর্ণ ঠিকানা বা নির্দিষ্ট নম্বর না থাকায় অনেক সময় ডাক পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে ডাকসেবা ছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাতে জটিলতা তৈরি হয়। নতুন ব্যবস্থায় এসব সীমাবদ্ধতা দূর করার চেষ্টা করা হবে। পোস্টম্যানের বিট, পরিবারের অবস্থান এবং নির্দিষ্ট ডেলিভারি পয়েন্ট ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত হলে একটি সমন্বিত ঠিকানা কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপও যুক্ত হবে

ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থার সঙ্গে নাগরিকদের ই-মেইল এবং হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কোনো নাগরিককে চিঠি বা বার্তা পাঠানোর প্রয়োজন হলে প্রচলিত ডাক ঠিকানার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও যোগাযোগ করা সম্ভব হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধাপে ধাপে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের তথ্য এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

থাকবে ডিজিটাল পরিচিতি নম্বর

ডিজিটাল পরিচয় যাচাইয়ের পর প্রত্যেক নাগরিককে একটি নম্বর দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এই নম্বরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ডিজিটাল পরিচিতি শনাক্ত করা যাবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর মাধ্যমে দেশের নাগরিকদের ঠিকানা ব্যবস্থাপনাকে আরও সংগঠিত করা এবং ডাকসেবাকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য শুধু ডাক পৌঁছানো নয়; বরং ভবিষ্যতে নাগরিকদের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য, বার্তা ও সেবা দ্রুত ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার একটি কাঠামো তৈরি করা। ধাপে ধাপে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রচলিত ঠিকানা ব্যবস্থার পাশাপাশি একটি জাতীয় ডিজিটাল ঠিকানা কাঠামো গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।