ভোক্তা পর্যায়ে এলপি গ্যাসের দাম বাড়ল, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৯৪০ টাকা
২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ
বৈশাখের শুরুতেই দেশের আবহাওয়ায় বিরাজ করছে এক ধরনের দ্বৈত চাপ। একদিকে তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে বৃষ্টির পূর্বাভাস-এই পরিস্থিতিতে নগরবাসী থেকে শুরু করে হাওরের কৃষকরাও পড়েছেন দুশ্চিন্তায়।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহ শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শনিবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়লে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে তাপমাত্রা সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে এবং গত তিন বছরের তুলনায় এবারের গ্রীষ্ম তুলনামূলক কম তীব্র। সাধারণত ৩৬-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে মৃদু, ৩৮–৪০ ডিগ্রিকে মাঝারি, ৪০–৪২ ডিগ্রিকে তীব্র এবং ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।
মঙ্গলবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে-৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ বুধবার ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু জায়গায় এবং রংপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় দমকা হাওয়া, বজ্রপাতসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এদিকে আবহাওয়ার এই পরিস্থিতির মধ্যেই হাওরাঞ্চলে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে উজানের বৃষ্টিপাত। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, ভারতের উজান থেকে আসা পানিতে সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা ও বাউলাইসহ বিভিন্ন নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আগাম বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
পাউবো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে হাওরের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতার আশঙ্কাও রয়েছে। এ অবস্থায় যেসব জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেছে, সেগুলো দ্রুত কাটার জন্য কৃষকদের বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী দুই থেকে তিন দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও এরপর ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কৃষি মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ নির্দেশ দেন, পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার জন্য পাশের এলাকা থেকে হার্ভেস্টার ও শ্রমিক নিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও আশ্বস্ত করেন, কৃষি খাতে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট হবে না এবং হাওরের ফসল রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতে হবে।