সৌদি আরবে কর্মরতদের আকামা নবায়নে নতুন নিয়ম
২২ জুলাই ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় তার পক্ষে কোনো জামিন আবেদন করা হয়নি।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা হলেন- সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) এবং রাকিবুল হাসান (৩০)। গ্রেপ্তার আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই। আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমিনুর রহমানকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, বাদী ওবায়দুর রহমান রাজধানীর পল্লবীর কালশী এলাকার রোজ গার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন এবং গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানতে পেরে ওবায়দুর রহমান পরিবারকে অবহিত করেন এবং গাজী নজরুল ইসলামকে ওই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। এরপর থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বাদীর দাবি, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র গাজী নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহ করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের সন্দেহ হয়, ওবায়দুর রহমানই গোপনে ভিডিও ধারণ করে তা সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। সেই সন্দেহ থেকেই তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৪ জুলাই সকাল ১১টার দিকে আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুর রহমানকে বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে উপস্থিত অন্য আসামিরা তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে আমিনুর রহমান তাকে মেঝেতে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন।
এ সময় ওবায়দুর রহমানের মা তাহমিনা এবং ছোট বোন মীম চিৎকার করে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।বাদী আরও অভিযোগ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছেন। নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ মামলার অভিযোগগুলো এজাহারভুক্ত অভিযোগ। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে।