জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
২২ জানুয়ারী ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ভাবনা ও নীতিগত রূপরেখা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ‘এ্যাসপাইরিং বাংলাদেশ–পলিসি সামিট ২০২৬’-এ দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে একটি বিস্তৃত নীতিগত রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়েছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান এ রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, কৃষি, শিল্প, সামাজিক নিরাপত্তা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা
ঘোষিত পরিকল্পনায় স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৬ থেকে ৮ শতাংশ বাজেট বরাদ্দের অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্ক ও ৫ বছরের নিচে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাকে একীভূত করে ‘স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। ‘ফার্স্ট হান্ড্রেড ডেইজ প্রোগ্রাম’-এর আওতায় প্রসূতি নারী ও মায়েদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
শিক্ষা খাতে মেধাভিত্তিক ১ লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০০ শিক্ষার্থীকে সরকারি উদ্যোগে সুদমুক্ত লোনে পাঠানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নারী শিক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইডেন কলেজ ও বদরুন্নেসা কলেজ একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থান
কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণ সুবিধা এবং প্রথম তিন বছরের জন্য সব শিল্পে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। বন্ধ কলকারখানা পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে চালু করে শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। গ্রাজুয়েট বেকারত্ব নিরসনে ৫ লাখ গ্রাজুয়েটকে দুই বছর মেয়াদি মাসিক ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়।
তরুণদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য নতুন একটি মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ১০ মিলিয়ন তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ এবং প্রতিটি উপজেলায় ‘ইয়ুথ টেক ল্যাব’ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় ‘জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক’ গঠন করে পাঁচ বছরে ৫ মিলিয়ন তরুণের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইসিটি ও ভিশন ২০৪০
আইসিটি খাতকে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে ‘ভিশন ২০৪০’ ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ মিলিয়ন আইসিটি জব সৃষ্টি, ১.৫ মিলিয়ন ফ্রিল্যান্সার তৈরি এবং আইসিটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির সুবিধার্থে একটি ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন এবং আইসিটি খাতে সরকারের ১.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় সাশ্রয়ের কথাও বলা হয়।
এই নীতিমালার মূল লক্ষ্য হলো শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে ধাপে ধাপে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তর করা এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা।