মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


পহেলা বৈশাখকে বাঙালির ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নতুন বছর পুরোনো গ্লানি ভুলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগায়।

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ 

পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই দিনটি আমাদের জীবনে ফিরে আসে নতুনের আহ্বান নিয়ে এবং নতুন বছরের আগমনে পুরোনো জীর্ণতা ও গ্লানি পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ‘বাংলা নববর্ষ’ উপলক্ষে সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদায় ১৪৩২, স্বাগত বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে তিনি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব বাংলাভাষী মানুষকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখের সঙ্গে এ অঞ্চলের কৃষি, প্রকৃতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়েও কৃষক প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসল উৎপাদনের সময় নির্ধারণ করেন। হাজার বছরের ঐতিহ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ এই উৎসবের মাধ্যমে নতুন করে উজ্জীবিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বৈশাখী মেলা, শোভাযাত্রা ও হালখাতার মতো আয়োজন আমাদের সংস্কৃতির বহুমাত্রিক সৌন্দর্য তুলে ধরে এবং জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। নববর্ষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে, যেখানে প্রকৃতির নবজাগরণ ও মানুষের আশাবাদ মিলেমিশে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনের অবসানের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন গণতান্ত্রিক সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড, খাল খনন কর্মসূচি এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের জন্য আর্থিক সহায়তা চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন থেকেই কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ প্রদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, যা কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

নববর্ষের এই শুভক্ষণে সংকীর্ণতা ও স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নতুন বছরের শুরুতে অতীতের হতাশা কাটিয়ে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় নিতে হবে।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলা নববর্ষ সবার জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে এবং দেশবাসীকে আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।