এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬: কঠোর নীতিমালায় নতুন নিয়ম ও শাস্তির বিধান
১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ
জ্বালানি বাজারের বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা দাম সমন্বয়ের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ বিভাগ সম্প্রতি একটি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে, যেখানে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ব্যবহারভেদে ৭০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত লাইফলাইন গ্রাহকদের জন্য কোনো মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব রাখা হয়নি। অন্যদিকে পাইকারি দামে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে- বর্তমান ৭ টাকা ৪ পয়সা থেকে ৫০ পয়সা, ১ টাকা এবং ১ টাকা ২০ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ভর্তুকি যথাক্রমে ৫ হাজার ২৪৪ কোটি, ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি এবং সর্বোচ্চ ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা পর্যন্ত কমতে পারে।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যয় তুলনায় বিক্রয়মূল্য কম হওয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-এর সম্ভাব্য ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার ৪৭৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ৯ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে সুপারিশ দেবে।
যদিও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের আইনগত দায়িত্ব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)-এর ওপর বর্তায়। রীতি অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো প্রস্তাব দিলে বিইআরসি তা যাচাই-বাছাই করে গণশুনানির মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
দাম বাড়ানোর পেছনে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এলএনজি, ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলের সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। এতে ভর্তুকির পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি কমাতে তিন বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত রেখে ধাপে ধাপে মূল্য সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে।
বর্তমানে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয়ও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। শুধু মার্চ ও এপ্রিলে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানিতে অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
চলতি বাজেটে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বরাদ্দ যথেষ্ট নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। আগামী জুন পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আরও প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন হতে পারে।