দিল্লিতে সিজেপি আন্দোলনে সংঘর্ষ, ১০ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধের অভিযোগ
২৫ জুলাই ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় প্রাণিসম্পদ খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই বন্যায় মোট ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো-চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি। এসব জেলার ৪৫টি উপজেলার ১৯১টি ইউনিয়নে বন্যা ব্যাপক তণ্ডবলীলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, ক্ষয়ক্ষতির দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা। শুধু এই জেলাতেই ক্ষতি হয়েছে ৬০ কোটি ৬ লাখ ৮১ হাজার ১৪০ টাকা। অন্যান্য জেলার মধ্যে:
কক্সবাজার: ১৩ কোটি ৫৩ লাখ ৯১ হাজার ১১০ টাকা
রাঙামাটি: ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮২ হাজার টাকা
খাগড়াছড়ি: ৩৭ লাখ ১ হাজার টাকা
বান্দরবান: ১৭ লাখ ৪৭ হাজার টাকা
বন্যায় পাঁচ জেলার মোট ১০ হাজার ৯৯১টি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৫৬টি গবাদিপশুর খামারে ১৭ কোটি ৫৫ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং ৬ হাজার ২৩৫টি হাঁস-মুরগির খামারে ১৯ কোটি ৭২ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষতি হয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম জেলাতেই ৯ হাজার ৮৯২টি খামার (৪,২১৮টি গবাদিপশু ও ৫,৬৭৪টি হাঁস-মুরগির খামার) বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
এছাড়া পশুখাদ্যের ঘাটতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। বিভাগজুড়ে: দানাদার পশুখাদ্য ৯১০ টন (ক্ষতি: ৫ কোটি ১৭ লাখ ৯২ হাজার টাকা), খড় ১৪ হাজার ২৬৫ টন (ক্ষতি: ২১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা), ঘাস ৯ হাজার ১২৯ টন (ক্ষতি: ৮ কোটি ২৬ লাখ ১৪ হাজার টাকা)। একই সাথে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান ও রাঙামাটির মোট ১০,৪৭৯ একর চারণভূমি বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
বন্যায় বিভাগজুড়ে মোট ১ লাখ ৬১ লাখ ৩৯৪টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে, যার বাজারমূল্য ৪ কোটি ৮৫ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকা। মারা যাওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে ৭১টি গরু, ১৬৫টি ছাগল, ৫০টি ভেড়া, ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬০০টি মুরগি এবং ২,৫০৮টি হাঁস। এর মধ্যে সিংহভাগ প্রাণহানি ঘটেছে চট্টগ্রাম জেলাতেই (৩৯টি গরু, ৯৫টি ছাগল, ৪২টি ভেড়া, ১,৪২,১৩৭টি মুরগি ও ১,৩০০টি হাঁস)।
প্রাণহানির পাশাপাশি বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪২টি গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি। এর মধ্যে ২ লাখ ২৩ হাজার ৩ ৯০টি গরু, ২৮ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৮টি মুরগি এবং বিপুল সংখ্যক মহিষ, ভেড়া ও হাঁস রয়েছে। বন্যাপরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তর ইতোমধ্যে চিকিৎসা ও টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এ পর্যন্ত ১১,৮৯৭টি পশু ও ৮৪,৬৫০টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০,৬৮৯টি পশু এবং ১৯,০২৭টি হাঁস-মুরগিকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তবে বন্যার পানি থেকে রক্ষা পায়নি প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কার্যালয়গুলোও। চট্টগ্রামের তিনটি, বান্দরবানের চারটি এবং কক্সবাজারের একটি কার্যালয় বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপপরিচালক (ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ) ডা. মুহাম্মদ ইজমাল হাসান জানান, এটি মাঠ পর্যায় থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব বের করতে তথ্য সংগ্রহের কাজ এখনও অব্যাহত রয়েছে। (সূত্র: বাসস)