‘সরকারকে অপসারণের সময় এসেছে’-শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর রাহুল গান্ধী
২৬ জুলাই ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে আগুন লাগার পর দেশের গ্যাস সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট আরও অন্তত দুই সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর ফলে আবাসিক, শিল্প, সিএনজি ও বিদ্যুৎ খাতে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে লোডশেডিংও বাড়তে পারে।
গত মঙ্গলবার মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। দুর্ঘটনার পর টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ দিন পার হলেও জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলেও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আমদানি করা এলএনজি রূপান্তরের মাধ্যমে ৯০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমেছে প্রায় ৪৫ কোটি ঘনফুট। ফলে মোট সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুটে। দৈনিক প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে বর্তমানে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শর্টসার্কিটের আগুনে টার্মিনালের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক কেবল ও যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে তিনজন প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে মেরামত কাজ শুরু করেছেন। তবে সরকার দ্রুত চালুর তাগিদ দিলেও এক্সিলারেট এনার্জি এখনো নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি।
সূত্রটির ভাষ্য, আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে। তবে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরতে আরও ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বীমা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হবে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) রফিকুল ইসলাম বলেন, শর্টসার্কিটে কেবল পুড়ে যাওয়ায় বিদেশি প্রকৌশলীরা মেরামতের কাজ করছেন। তবে কাজ শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময় এখনই বলা সম্ভব নয়।
জ্বালানি বিভাগের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, যুক্তরাজ্যের প্রকৌশলীরা বিরামহীনভাবে কাজ করছেন। কিছু যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আনতে হতে পারে। দ্রুত চালুর জন্য এক্সিলারেট এনার্জিকে অনুরোধ করা হলেও তারা এখনো নির্দিষ্ট সময় জানায়নি।
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে আবাসিক খাতে। রাজধানীর মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবোসহ বিভিন্ন এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় চুলায় গ্যাসের চাপ অত্যন্ত কম থাকায় রান্না প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করছে। আবার কেউ কেউ গভীর রাতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে পরদিনের রান্না সেরে রাখছেন।
গ্যাস সংকটে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও চাপ বেড়েছে। রাজধানী থেকে জেলা শহর-সবখানেই অনেক স্টেশন দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেখানে মধ্যরাত থেকেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা জানান, গত কয়েক দিনের বৃষ্টি ও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় বড় ধরনের লোডশেডিং হয়নি। তবে আগামী দিনে তাপমাত্রা বাড়লে এবং শিল্পকারখানা পুরোপুরি চালু হলে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। তখন লোডশেডিংও বাড়তে পারে।
শনিবার বিকেল ৫টায় দেশে লোডশেডিং ছিল ৮২১ মেগাওয়াট। ওই সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪ হাজার ৪৩১ মেগাওয়াট। বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে দৈনিক প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার আগে ছিল প্রায় ৯০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে প্রায় চার হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে, যেখানে আগে উৎপাদন ছিল পাঁচ থেকে ছয় হাজার মেগাওয়াট।
জ্বালানি খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং বিকল্প জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।