যুক্তরাষ্ট্রে চালু হলো ইলন মাস্কের ‘এক্স মানি’
৩১ জুলাই ২০২৬, ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি অটুট রাখতে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে সমাজে অস্থিরতা তৈরির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। হাজার বছরের ঐতিহ্যে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের নাগরিক।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। সরকার একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে। সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে বিষয়গুলো উপস্থাপন করলে আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে যৌক্তিক দাবিগুলোর ইতিবাচক সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে। বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ধারণ করেই দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের পরিবর্তে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ভিত্তিতেই গড়ে উঠবে আগামীর বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।