শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: ১৮ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অন্তত ১৩


কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে একটি রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও মাঝিমাল্লাসহ অন্তত ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

৩১ জুলাই ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ 

টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: ১৮ জন উদ্ধার, নিখোঁজ অন্তত ১৩
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ উপকূলে রোহিঙ্গাবাহী একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মাঝিমাল্লাসহ অন্তত ১৩ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌকাঘাটসংলগ্ন সাগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে কয়েকজন রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় পৌঁছালে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নৌকাটি ডুবে যায়।খবর পেয়ে আশপাশের জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তারা ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেন।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে আসার সময় নৌকাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া জেলে মো. ইসমাইল জানান, নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৮ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ১৩ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে নৌকার মাঝিমাল্লাও রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কোনো নারী বা শিশু নেই বলেও তিনি জানান।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা আগে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবির থেকে মিয়ানমারে গিয়ে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে আবার বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তবে এ দাবির পক্ষে বিজিবি বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ১৮ জনকে বিজিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা কী উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

রাখাইন রাজ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে নাফ নদী ও সাগরপথে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার ঘটনা বেড়েছে। এ ঘটনার পর নিখোঁজদের সন্ধানে স্থানীয় জেলে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নাফ নদী ও আশপাশের উপকূলীয় এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।