জুলাই গণঅভ্যুত্থান আইন ২০২৬ পাস: অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা ও মামলা প্রত্যাহারের বিধান
১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৪:৪৬ অপরাহ্ণ
বিএনপি ক্ষমতায় এলে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের কল্যাণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বতন্ত্র বিভাগ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি যখন অতীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তখন ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারদের কল্যাণে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, ‘আপনারা যখন নিজেদের কষ্ট, ব্যথা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরছিলেন, তখন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- ইনশাআল্লাহ জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের জন্য একটি আলাদা বিভাগ করা হবে।’
১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তুলনা টেনে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছেন, আর ২০২৪ সালে সেই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জনগণ আবার রাজপথে নেমে এসেছে। ‘৭১ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের বছর, আর ২০২৪ ছিল স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলন।’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শুধু ওই আন্দোলনেই ১ হাজার ৪০০–এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ। আহতদের মধ্যে বহু মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন, কেউ এক বা দুই চোখ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তা এককথায় গণহত্যা।’
২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দেওয়া নিজের বক্তব্য স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ওই আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী, কলেজ ও মাদ্রাসার ছাত্র, স্কুলশিক্ষার্থী, আইনজীবী, রাজমিস্ত্রি, দোকানকর্মী, গাড়িচালক, দিনমজুর- সব শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদ হয়েছেন। এমনকি ছয় বছরের শিশু রিয়াও রক্ষা পায়নি। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলন কোনো দল বা গোষ্ঠীর ছিল না। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। সেই আন্দোলনের প্রতিটি ছবি আজ ইতিহাসের সাক্ষ্য।’
আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের কষ্ট কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তবে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলনে নেমেছিলেন, তা বাস্তবায়ন করা।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যদি আমরা একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যতেও এই শোকগাঁথা আর শোকসমাবেশ চলতেই থাকবে।