শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি চলছে, লক্ষ্মীপুরের সিল উদ্ধারের ঘটনা তার প্রমাণ: মাহদী আমিন


একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। লক্ষ্মীপুরে অবৈধভাবে ভোটের সিল তৈরির ঘটনা এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে জাল ভোট দেওয়ার প্রস্তুতিকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ 

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি চলছে, লক্ষ্মীপুরের সিল উদ্ধারের ঘটনা তার প্রমাণ: মাহদী আমিন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। লক্ষ্মীপুরে সেই দলের নেতাদের দ্বারা ভোটের সিল তৈরির ঘটনা তারই প্রমাণ। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ধর্মীয় অনুভূতিকে অপব্যবহার করে এবং জাল ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক বোরখা ও নিকাব প্রস্তুত করা হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, লক্ষ্মীপুরে ভোটে ব্যবহারের অবৈধ ছয়টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় একটি প্রিন্টিং প্রেসের মালিক গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতার নির্দেশেই এসব সিল তৈরি করা হয়েছে। এমনকি তার হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া অর্ডারের তথ্য, জব্দকৃত আলামত এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রমাণও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, যা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্তসংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মুখমণ্ডল খুলে ভোটার শনাক্তকরণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিদ্যমান নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র বা হজের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক, ঠিক সেভাবেই ভোটগ্রহণের সময় নারী পোলিং কর্মকর্তার সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারী কক্ষে যথাসম্ভব নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এর আগেও ওই রাজনৈতিক দলটি বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করেছে। এসব ঘটনার কারণে জাল ভোটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এমনকি অতিরিক্ত ব্যালট ছাপানোর প্রস্তুতির তথ্যও বিএনপি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে ওই দলের এক নেতার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্রিকেট খেলার ১৫২টি স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি তারা নির্বাচনের সময় দেশব্যাপী সহিংসতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে? এমন আশঙ্কা থাকলে এ বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন আরও অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও গুরুতর অসংগতি রয়েছে। তিনি বলেন, পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামের একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান সর্বাধিক পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমোদন পেয়েছে। মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে একাই পাশার রয়েছে ১০ হাজার ৫৫৯ জন। অথচ বাস্তবে হবিগঞ্জের একটি গ্রামের বাসার একটি কক্ষই তাদের তথাকথিত কার্যালয় এবং লোকবল বলতে একজনই, যা ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যবেক্ষকের নামে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি আগেই নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। এসব অনিয়ম একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বড় অন্তরায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে মাহদী আমিন বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানায় বিএনপি।