বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক দর্শন, রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নির্বাচনে জয়লাভ করলে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। তার মতে, একটি ভারসাম্যপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী সরকার যেমন প্রয়োজন, তেমনি শক্তিশালী বিরোধী দলও অপরিহার্য। সবাই মিলে সরকার গঠনের পরিবর্তে এককভাবে সরকার গঠন এবং কার্যকর বিরোধী দল থাকাই গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গলজনক।
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশে ফেরা এবং নির্বাচনি ব্যস্ততার মধ্যেই মাতৃবিয়োগের শোক- এই দুই বাস্তবতার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানান তারেক রহমান। তবে তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দায়বদ্ধতাই তাকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দল আশাবাদী যে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে এবং জনগণ তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, রাজনীতিতে জনগণ যাকে গ্রহণ করবে না, শক্তি প্রয়োগ করে তাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অর্ধেক নারী। বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই সুযোগ আরও উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর গৃহিণীদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়াও প্রতিবন্ধী, তরুণ ও প্রবীণসহ সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের জন্য বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
বৈদেশিক নীতি প্রসঙ্গে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তারেক রহমান বলেন, তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধি। কোনো চুক্তি যদি দেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তবে সেই দেশের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই দূরত্ব তৈরি হবে। দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে বিএনপি সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
গত দেড় দশকে সংঘটিত গুম ও খুনের বিচার প্রসঙ্গে তিনি কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, একটি সভ্য রাষ্ট্রে মানুষ গুম হয়ে যাবে আর তার বিচার হবে না- এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি ভুক্তভোগী পরিবার বিচার পাওয়ার অধিকার রাখে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যারা গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
দলের কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, দুর্নীতি এবং ব্যবসায়িক কারণে ডিফল্ট হওয়া এক বিষয় নয়। তার দাবি, বিগত স্বৈরাচারী সরকার বিএনপির ব্যবসায়ী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও হয়রানির মাধ্যমে তাদের ব্যবসা ধ্বংস করেছে এবং ন্যায্য ব্যাংক ঋণ থেকে বঞ্চিত করেছে। এর ফলেই অনেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে ঋণখেলাপি হয়েছেন, যা দুর্নীতির সঙ্গে তুলনীয় নয়।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমনে বিএনপির ইশতেহারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে এবং ক্ষমতায় গেলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।