শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের


বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা এক মাসে এ খাতে সর্বোচ্চ রপ্তানি। একই সঙ্গে মোট পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের অংশও বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।

২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ 

অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানিতে নতুন রেকর্ড বাংলাদেশের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের আগস্টে এসব বাজারে রেকর্ড ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এক মাসে অপ্রচলিত বাজারে এটিই সর্বোচ্চ রপ্তানি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে তেমন অগ্রগতি না থাকলেও চলতি অর্থবছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। আগস্টে রেকর্ড রপ্তানির পাশাপাশি এসব বাজারে মাসিক গড় রপ্তানিও বেড়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে অপ্রচলিত বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানির মাসিক গড় ছিল ৫৭৪ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এ গড় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১১ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলারে। অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ার সঙ্গে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানিতে এসব বাজারের অংশও বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ১৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ এসেছিল অপ্রচলিত বাজার থেকে। চলতি অর্থবছরে এ হার বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ৩২ শতাংশ।

বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, অপ্রচলিত বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি সম্প্রসারণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এতদিন এসব বাজারে সেভাবে নজর দেওয়া হয়নি। এখন গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর সময় এসেছে। তিনি বলেন, অপ্রচলিত বাজার মানেই শুধু দামি পোশাকের বাজার নয়। এসব দেশে বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাকের বড় চাহিদা রয়েছে। দেশগুলোতে সব মিলিয়ে শত শত বিলিয়ন ডলারের পোশাকের বাজার রয়েছে। তাই প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বাড়াতে অপ্রচলিত বাজারের দিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ইপিবির তথ্য বলছে, আগস্টে অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় গন্তব্য ছিল জাপান। দেশটিতে ১১৮ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ায় ৭৫ দশমিক ১৪ মিলিয়ন, ভারতে ৭২ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন, তুরস্কে ৫৯ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন এবং কোরিয়া প্রজাতন্ত্রে ৪৫ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। একই সময়ে মেক্সিকোতে ৩২ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৮ দশমিক ৬২ মিলিয়ন, ব্রাজিলে ২৪ দশমিক ২৪ মিলিয়ন, চীনে ২০ দশমিক ৭০ মিলিয়ন এবং সৌদি আরবে ১৯ দশমিক ২৫ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় ১৫ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন, চিলিতে ১৩ দশমিক ১৫ মিলিয়ন, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১৩ দশমিক ১০ মিলিয়ন, রাশিয়ায় ৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন এবং নিউজিল্যান্ডে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে আরও ৮৫ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক। ইপিবির হিসাবে, আগস্টে বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৩ হাজার ৬০৮ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি হয়েছে ৬৪২ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন ডলার।

অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের বাজার বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। নতুন নতুন দেশে রপ্তানি বাড়লে প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি বাংলাদেশের পোশাকের বৈশ্বিক বাজারও আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সূত্র: বাসস