বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬

পুলিশ হেফাজতে আসামির বক্তব্য প্রচার না করার কড়া নির্দেশ আদালতের


রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বাদী ও ভিকটিমের বাবা-মায়ের জবানবন্দির মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিন রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন- বিচারকের সামনে ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় আসামির কথা বলা এবং সেই বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা যাবে না।

২ জুন ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ণ 

পুলিশ হেফাজতে আসামির বক্তব্য প্রচার না করার কড়া নির্দেশ আদালতের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে (৮) ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

এদিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর আগে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে একটি আবেদন করেন। আবেদনে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী বিচারকের সামনে ছাড়া পুলিশ হেফাজতে থাকাবস্থায় আসামির কথা বলার কোনো এখতিয়ার নেই। উচ্চ ও সর্বোচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, পুলিশি হেফাজতে থাকা বা দণ্ডিত আসামিদের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও জনমত প্রভাবিত হওয়া রোধে ভবিষ্যতে যেন পুলিশ হেফাজতে থাকা আসামিরা কারও সামনে বক্তব্য দিতে না পারে, সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চান তিনি। পরে বিচারক মাসরুর সালেকীন আবেদন মঞ্জুর করে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে মামলার বাদী ও ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর ভিকটিমের মা পারভীন আক্তার সাক্ষ্য দেন। রাষ্ট্র নিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মূসা কলিমউল্লাহ তাদের জেরা করেন। পরবর্তীতে ক্যামেরা ট্রায়ালের (রুদ্ধদ্বার বিচার) মাধ্যমে ভিকটিমের বড় বোনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। এছাড়া মামলার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী- ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীদের সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে।

এর আগে, সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। গত সোমবার (১ জুন) আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন। ২৪ মে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার অভিযোগপত্র আমলে নেয়, যেখানে রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।

নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সাড়ে ১০টার দিকে রামিসার মা তাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে আসামিদের কক্ষের সামনে শিশুর জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া মেলেনি। পরে রামিসার বাবা-মা ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে শিশুটির মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির ভেতরে কাটা মাথা উদ্ধার করেন।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন।