রাজকীয় সমাপ্তি • বিদায়ের ম্যাচে মেসির জাদু, ৩-০ গোলে বেনিনকে হারাল আর্জেন্টিনা
৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৫৫ অপরাহ্ণ
কুমিল্লার লালমাইয়ে ফসলি জমি থেকে উদ্ধার হওয়া ১৫ বছর বয়সী কিশোরী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় প্রধান আসামি সুমনকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমন ওই কিশোরীকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক। পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে তাকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে নিয়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হয় পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, সুমনকে কুমিল্লায় নেওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। তবে সংবাদ সম্মেলনের নির্দিষ্ট সময় এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
এদিকে তাজমিনের মৃত্যুর আগের রাতের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ পেয়েছে পুলিশ। ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে আইকনিক পরিবহনের একটি বাস থেকে নামে তাজমিন। এরপর সে হোটেলের পশ্চিম পাশে থাকা কয়েকটি স্টেশনারি দোকানের দিকে যায়। একটি দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে দোকানির সঙ্গে কথা বলতেও দেখা যায় তাকে। এ সময় দোকানিকে তাজমিনকে কিছু একটা দেখাতে বা কোনো দিকনির্দেশনা দিতে দেখা যায়।
ফুটেজে আরও দেখা যায়, দোকানের সামনে কিছু দেখার পর তাজমিন সেখান থেকে সরে অন্য পাশে যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে নূরজাহান হোটেল এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। তবে ওই এলাকা ছাড়ার পর তাজমিন কোন পথে গিয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। তার চলাচলের পথ এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের মাধ্যম শনাক্তে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চার দিন আগে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায় তাজমিন। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে সেখান থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয় সে।
গত ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে যাত্রা করে তাজমিন। রাতে পদুয়ার বাজারে পৌঁছে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে সে। সিসিটিভি ফুটেজে ওই এলাকায় তার অবস্থান এবং দোকানির সঙ্গে কথোপকথনের দৃশ্য পাওয়া গেলেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর তার গতিবিধি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য মেলেনি। এর পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কীভাবে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত।
বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনেরা তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে লালমাই থানায় মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেন তার বাবা আবদুল আলীম। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না, তাজমিনের চলাচলের পেছনে কী কারণ ছিল এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য কী-এসব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।