এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনে ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় একটি মহল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
আজকের শহুরে জীবনে গৃহকর্মী ছাড়া অনেক পরিবারের দৈনন্দিন চলাচল প্রায় অসম্ভব। সন্তান ছোট থাকলে এই নির্ভরতা আরও বেড়ে যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাচ্চাদের খাওয়া, খেলা, পড়া থেকে শুরু করে ঘরের প্রায় সব কাজই সামলে নেন গৃহকর্মীরা। তাঁদের অনেকেই আবার বাসাতেই থাকেন।
তবে গৃহকর্মীদের এই অবিচ্ছেদ্য উপস্থিতির মধ্যে লুকিয়ে থাকে আরেক বাস্তবতা- তাঁদের বারবার বদলে যাওয়া, হঠাৎ না আসা কিংবা সম্পূর্ণ নতুন কেউ দায়িত্ব নেওয়া। যেভাবেই আসা-যাওয়া হোক, তাঁরা ঘরের ভেতরের সবকিছুর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত হন। সন্তানের নিরাপত্তা, ঘরের চাবি, খাবার, আলমারি বা পানির বোতল- সবকিছুতেই তাঁদের প্রবেশাধিকার থাকে।ফলে একদিকে যেমন নির্ভরতা তৈরি হয়, অন্যদিকে সেই নির্ভরতাই জন্ম দেয় ভয়। যে মানুষগুলোর ওপর ভরসা রেখে আমরা নিশ্চিন্তে অফিসে যাই, তারাই চাইলে মুহূর্তেই বিপদ ডেকে আনতে পারে- এ ভাবনা অস্বস্তিকর হলেও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অনেকে তাই বাসায় সিসি ক্যামেরা লাগান, অফিসে বসে সন্তানের অবস্থা ও ঘরের কাজ তদারক করেন। কিন্তু তবুও অন্তর্নিহিত ভয় থেকেই যায়, কারণ নজরদারিতে সবকিছুই ধরা পড়ে না।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আজকের ঘটনাটি সেই ভয়কে আরও গভীর করে দিয়েছে। এক গৃহকর্মী যেভাবে একটি মা ও তার মেয়েকে হত্যা করেছে, তা অকল্পনীয়। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই ট্র্যাজেডিতে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে। বাবা ঘরে ফিরে স্তব্ধ হয়ে গেছেন- চোখে শুধু বিস্ময়, শোক আর অসহায়তার ভার। মেয়েটির সেদিন পরীক্ষা ছিল। সব পরিকল্পনা, স্বপ্ন, জীবন- এক নিমিষে থেমে গেল।
তবু জীবন চলতে থাকে। গৃহকর্মী ছাড়াও শহুরে জীবনে বিকল্প নেই, তাই মানুষকে বিশ্বাস করতে হয়। তবে সেই বিশ্বাস যেন অন্ধ না হয়। সন্তান, পরিবার ও ঘর- সবকিছুর নিরাপত্তায় সচেতনতা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি। বিশ্বাস রাখতে হবে, কিন্তু সেই বিশ্বাসের সঙ্গে সাবধানতাই হতে হবে নতুন ভারসাম্য।