বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় পৌঁছাবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শতভাগ বই


২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত ও মানসম্মত পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ বই পৌঁছে দিতে কাজ করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মান নিশ্চিত করতে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে।

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ 

৩০ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলায় পৌঁছাবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের শতভাগ বই
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষার্থীর হাতে পরিমার্জিত ও মানসম্মত পাঠ্যবই তুলে দিতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শতভাগ বই সরবরাহ নিশ্চিত করতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি সূত্র জানায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ছাপাখানায় প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিকসহ বিভিন্ন স্তরের পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি গুণগত মান বজায় রাখতে ছাপাখানা থেকে মাঠপর্যায়ে বই গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মাদ গোলাম ফখরুল মাওলা বলেন, এ বছর পাঠ্যবইয়ের মানের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুণগত মান বজায় না থাকায় ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল করা হয়েছে। ৩০ নভেম্বরের মধ্যে শতভাগ মানসম্মত ও নিখুঁত পাঠ্যবই উপজেলায় পৌঁছাতে মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে প্রেস ও মাঠপর্যায়ে অনিয়মের সুযোগ থাকলেও এবার বই গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সরাসরি মান যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বই গ্রহণের পরও মান নিয়ে কোনো বিচ্যুতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রহীতা কর্মকর্তাকেও শাস্তির আওতায় আনা হবে। এবার গত বছরের তুলনায় এক মাস আগে বই মুদ্রণের কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রেসে বই ছাপানোর কাজ চলছে।

এনসিটিবির ২২ সেপ্টেম্বরের উৎপাদন প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, ইবতেদায়ী, মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তর মিলিয়ে মোট ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৯৮ হাজার ১০১ কপি বই ছাপানো হবে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বইও রয়েছে।

প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ৫৭ লাখ ৩০ হাজার ৬৪০টি বইয়ের মধ্যে ৪২ লাখ ৬৬ হাজার ২৫৩টি বা ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ ছাপানো শেষ হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে ৭ কোটি ৬০ লাখ ৯৭ হাজার ৯৬টি বইয়ের মধ্যে ২ কোটি ৮০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৯৬টি বা ৩৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং মাধ্যমিক স্তরে ২২ কোটি ১১ লাখ ৮২ হাজার ৫৯২টি বইয়ের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার ৪০০টি বা ৭ শতাংশ বই ছাপা শেষ হয়েছে।

এনসিটিবির বিতরণ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, প্রাক-প্রাথমিক স্তরের বইয়ের ছাপা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে বাঞ্ছারামপুর ও সরাইলসহ দেশের কয়েকটি উপজেলায় বই সরবরাহ শুরু হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সব উপজেলায় শতভাগ বই পৌঁছে দেওয়া হবে। তবে ইংরেজি ভার্সন ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বিশেষ বই জেলা পর্যায়ে পাঠানো হবে।

এনসিটিবি জানিয়েছে, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ১১৩টি প্রেসের মধ্যে বর্তমানে ৯১টি প্রেসে বই মুদ্রণের কাজ চলছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় বড় প্রেসগুলোতে জেনারেটর ব্যাকআপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে।

বইয়ের কাগজের জিএসএম ও মুদ্রণের মান নিশ্চিত করতে প্রি-ডেলিভারি ইন্সপেকশন (পিডিআই) এজেন্সির পাশাপাশি ল্যাব টেস্ট করা হচ্ছে। সম্প্রতি নয়টি প্রেসের কাগজের নমুনা বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) পরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষায় নমুনাগুলো মানসম্মত পাওয়া গেছে।

এনসিটিবি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে মোট ৫৩টি মনিটরিং টিম কাজ করছে। এর মধ্যে এনসিটিবির ৩৩টি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাতটি টিম ছাপাখানাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি করছে। এ ছাড়া এনসিটিবির সচিব ও সদস্যদের নেতৃত্বে পাঁচটি বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। মনিটরিং কর্মকর্তারা প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন প্রেসে অবস্থান করে মুদ্রণকাজ তদারকি করছেন।

নতুন বইয়ের কাগজের উজ্জ্বলতা ও মুদ্রণমান নিশ্চিত করতে পিডিআই এজেন্সির মাধ্যমে কেমিক্যাল ও গুণগত মান পরীক্ষা করা হচ্ছে। র‌্যান্ডম ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রেসের কাগজের নমুনাও ল্যাব টেস্ট করা হচ্ছে। মানদণ্ড পূরণ না করায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রেসের প্রায় সাড়ে চার লাখ ছাপানো ফর্মা এবং ২৭ হাজার নিম্নমানের বই বাতিল ও বিনষ্ট করা হয়েছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, উপজেলা পর্যায়ে বই সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের নিম্নমানের কাগজের বই বরদাশত করা হবে না। নির্ধারিত সময়ে মানসম্মত বই সরবরাহে ব্যর্থ হলে কোনো মুদ্রণ প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মদ আবু নাসের টুকু বলেন, শিক্ষার্থীদের হাতে যথাসময়ে বই পৌঁছে দিতে রোডম্যাপ অনুযায়ী কাজ চলছে। প্রেস মালিকদের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বই সরবরাহ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠে নিয়োজিত টিমগুলো প্রতিদিন প্রেসে অবস্থান করে কাজ তদারকি করছে। তিনি বলেন, বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা যেন নতুন শ্রেণির পুরো সেট বই হাতে পায়- এটাই এনসিটিবির মূল লক্ষ্য।

সূত্র: বাসস