বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছয় মাসের দৌড়ঝাঁপ এবং ‘সিস্টেম’ নামের এক গোলকধাঁধা


ড্রাইভিং লাইসেন্সের একটি ভুল তথ্য সংশোধন করে ডুপ্লিকেট কার্ড পেতে ছয় মাস ধরে বিআরটিএতে দৌড়ঝাঁপ করেছেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের এক কর্মকর্তা। পরিচিত কর্মকর্তা, ব্যাচমেট, পরিদর্শক থেকে শুরু করে বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা নেওয়ার পরও সমস্যার সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত ‘সিস্টেম’ জটিলতা, একের পর এক অনুমোদন এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রকাশ করেছেন বিসিএস ক্যাডারের ঐ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ 

একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছয় মাসের দৌড়ঝাঁপ এবং ‘সিস্টেম’ নামের এক গোলকধাঁধা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

একটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভুল তথ্য সংশোধন করে ডুপ্লিকেট কার্ড পেতে ছয় মাস ধরে বিআরটিএতে দৌড়ঝাঁপ করেছেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের প্রায় আট বছর চাকরি করা এক কর্মকর্তা। তাঁর এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে সরকারি সেবা পেতে সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি, দীর্ঘসূত্রতা এবং ‘সিস্টেম’ জটিলতার চিত্র।

​বরিশালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় মাঝেমধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বাবুগঞ্জ কিংবা সদর উপজেলার সীমান্তে সড়ক পরিবহন আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতেন সরকারি এক কর্মকর্তা। বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির বাস থামিয়ে কাগজপত্র যাচাই করাই ছিল তাঁর কাজ।

​একটি নামকরা পরিবহন কোম্পানির গাড়ি প্রায়ই তাঁর নজরে আসত, যাদের কোনো না কোনো কাগজে ঝামেলা থাকত। কখনো ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ, কখনো চালকের লাইসেন্স নেই, আবার কখনো রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ উত্তীর্ণ। ​একদিন কৌতূহলবশত মোবাইল কোর্ট চলাকালে ওই প্রতিষ্ঠানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, “এত বড় কোম্পানি, আপনারা কাগজপত্র ঠিক রাখেন না কেন?” সেই কর্মকর্তা যে উত্তর দিয়েছিলেন, তখন তা পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেননি এই ম্যাজিস্ট্রেট।

তিনি বলেছিলেন, “স্যার, সব কাগজ ঠিক করতে বিআরটিএতে যে পরিমাণ ঘোরাঘুরি, হয়রানি আর খরচ করতে হয়, তার চেয়ে মাঝেমধ্যে মোবাইল কোর্টে জরিমানা দেওয়া অনেক সহজ।” ​তখন কথাটা অদ্ভুত মনে হলেও আজ বহু বছর পর এসে সেই কথার মর্ম হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের প্রায় আট বছর চাকরি সম্পন্ন করা এই কর্মকর্তা।

​অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর তিনি আরেকটি বিষয় দেখে অবাক হয়েছিলেন। কয়েকজন বাংলাদেশিকে দেখেছিলেন নীলক্ষেত থেকে বানানো জাল ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করতে। একজনকে তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, “এটা করেন কেন? ধরা পড়লে তো নিজের পাশাপাশি দেশেরও বদনাম হবে।” উত্তর এসেছিল, “ভাই, বৈধভাবে পাওয়ার অনেক চেষ্টা করেছি। না পেরে শেষে এই পথে এসেছি।” তখনও ওই কর্মকর্তার ধারণা ছিল, চেষ্টা করলে নিশ্চয়ই বৈধ পথে সমাধান সম্ভব। তবে সাম্প্রতিক নিজস্ব অভিজ্ঞতা তাঁর সেই বিশ্বাসকে পুরোপুরি তছনছ করে দিয়েছে।

​অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে তাঁর স্ত্রীর বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্সটি হারিয়ে যায়। দেশে এসে ২০২৬ সালের ২৫ মার্চ ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন তিনি। একই সাথে বিআরটিএ চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। সঙ্গে জমা দেন পাসপোর্ট, ভিসা, বিমানের টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সমস্ত কাগজপত্র। খুব দ্রুতই ই-লাইসেন্স হাতে পান। কিন্তু তাঁদের প্রয়োজন ছিল ডিজিটাল প্লাস্টিক কার্ড (হার্ড কপি)। এরপর শুরু হয় তদবির ও দৌড়ঝাঁপ। প্রশাসনে আট বছর চাকরি করার সুবাদে বিআরটিএর বহু কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। ঢাকা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, পরিচিত বিআরটিএ কর্মকর্তা, বিআরটিএতে কর্মরত ব্যাচমেট ম্যাজিস্ট্রেট- যাকে পেয়েছেন তাকেই অনুরোধ করেছেন।

​প্রায় প্রতিদিনই খোঁজখবর নিয়েছেন। এরপর এক ব্যাচমেটের সহায়তায় বিআরটিএর এক পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) জরুরি ভিত্তিতে কার্ডটি প্রিন্টের জন্য পাঠান। ভেবেছিলেন ভোগান্তির বুঝি এখানেই শেষ। কিন্তু আসল নাটকের শুরু তখনই। আগস্টের দিকে কার্ডটি হাতে পেয়ে দেখেন এক চরম ভুল-বাবার নামের জায়গায় চলে এসেছে স্বামীর নাম! এমন ভুল তথ্য সংবলিত কার্ড বিদেশে ব্যবহার করার কোনো সুযোগ নেই। আবার সেই ইন্সপেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তাঁর এখতিয়ারের বাইরে। তিনি বিআরটিএ প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (এডি-লাইসেন্স) আতিকুল ইসলামের নম্বর দেন।

​প্রথম দিন ফোন করতেই এডি ফোন ধরেন। পুরো ঘটনা শুনে বলেন, “দেখছি।” কিন্তু এরপর বহুবার ফোন করা হলেও তিনি আর ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা (মেসেজ) পাঠালেও মিলেনি কোনো উত্তর। ​উপায় না পেয়ে কর্মকর্তা আবার সেই ইন্সপেক্টরের দ্বারস্থ হন। অনেক অনুরোধের পর ইন্সপেক্টর প্রথমে লাইসেন্স ‘অমিল অনুমোদনের’ আবেদন করতে বলেন। আবেদন করা হলে কয়েকদিন পর তা অনুমোদনও হয়। এবার বলা হয় সংশোধনের (কারেকশন) আবেদন করতে। কিন্তু সিস্টেমে ঢুকতেই দেখা যায় সব তথ্য ঠিক আছে, কোথাও কোনো ভুল নেই। বিষয়টি আবার ইন্সপেক্টরকে জানানো হয়।

​দুই দিন পর তিনি জানান, “বায়োমেট্রিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আবার বায়োমেট্রিক দিতে হবে।” ​কর্মকর্তা উত্তর দেন, “আমার স্ত্রী তো অস্ট্রেলিয়ায়। সে এখন বাংলাদেশে এসে বায়োমেট্রিক দেবে কীভাবে?” ​ইন্সপেক্টরের জবাব, এডি (লাইসেন্স) আতিক সাহেবই এটা সমাধান করতে পারবেন, তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করুন। কিন্তু যাকে নক দিলে কোনো সাড়া পাওয়া যায় না, তার কাছে যাওয়া কীভাবে সম্ভব?

​এর মধ্যেই উক্ত কর্মকর্তা বদলি হয়ে ঢাকায় চলে আসেন। ঠিক সে সময় তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হন। বাবার আইসিইউর সামনে বসে বসেও তিনি বিআরটিএর ওয়েবসাইট ঘাঁটতে থাকেন- যদি পরিচিত কাউকে পাওয়া যায়। তবে ওয়েবসাইটের তথ্য অনেক দিন ধরে আপডেট করা হয়নি। সেখানে যেসব ম্যাজিস্ট্রেটের নাম রয়েছে, তাঁদের প্রায় সবাই বর্তমানে ইউএনও হিসেবে বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত, কেউ বিআরটিএতে নেই।
​খোঁজখবর নিয়ে ক্যাডার সার্ভিসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার (সিনিয়র স্যার) নাম পান তিনি। স্যারকে সাথে সাথেই মেসেঞ্জারে বার্তা পাঠান। তিনি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে সাড়া দিয়ে মোবাইল নম্বর দেন এবং নথি পাঠাতে বলেন। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁর ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএ) দায়িত্ব দেন। তবে পিএ দুই দিন চেষ্টা করে শেষ পর্যন্ত জানান, “বায়োমেট্রিক ছাড়া উপায় নেই।” ​এর কিছুদিনের মধ্যেই কর্মকর্তার বাবা মারা যান। তিনি বাড়ি চলে যান।

​শোকাচ্ছন্ন দিনগুলো শেষে ঢাকায় ফিরে একদিন সরাসরি বিআরটিএ সদর দফতরে হাজির হন এই কর্মকর্তা। উপপরিচালক (ডিডি-অ্যাডমিন) স্যারকে না পেয়ে পরিচালক (অ্যাডমিন) স্যারের সঙ্গে দেখা করেন। সব শুনে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মহোদয়কে বিষয়টি সমাধানের নির্দেশ দেন। পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে সাড়া দিয়ে সিস্টেম অ্যানালিস্ট ও এডি (লাইসেন্স)-কে বিষয়টি সমাধান করতে বলেন।

​সিস্টেম অ্যানালিস্ট মহসিন সাহেব এবং ডিডি (লাইসেন্স) ইব্রাহিম সাহেব প্রথমে ডুপ্লিকেট লাইসেন্সের আবেদন দেখে মুচকি হাসলেন। এরপর মহসিন সাহেব এডি আতিক সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “এটা তো খুবই সহজ। প্রিন্ট দেওয়ার আগে সিস্টেমে এডিট অপশনে গিয়ে বাবার নাম ঠিক করে দিলেই হবে।” ওই কর্মকর্তাকে আশ্বস্ত করে তাঁরা বলেন, “আপনি চলে যান, প্রিন্ট করে ফোন দেব।”

​একবুক স্বস্তি নিয়ে বাসায় ফিরে আসেন তিনি। ভাবলেন, দীর্ঘ ছয় মাসের ভোগান্তির গল্প বুঝি এবার শেষ হলো। ​কিন্তু দুই দিন পর ফোন করা হলে জানানো হয়, “সমাধান হয়নি। এডিট করা সম্ভব নয়। আবার বায়োমেট্রিক দিতে হবে।” ​পায়ে হেঁটে নয়, আবার উবার নিয়ে বিআরটিএতে ছোটেন তিনি। ডিডি (অ্যাডমিন) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করেন, “এর সমাধান কী?” যে জায়গায় এত দিন বলা হচ্ছিল, বায়োমেট্রিক ছাড়া কোনো গতি নেই; সেখানে এবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সামনে সুর বদলে বলা হয়- চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করলে এবং চেয়ারম্যান অনুমোদন দিলে কাজ করা সম্ভব।
​কর্মকর্তা সঙ্গে সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘ChatGPT’-র সাহায্যে এক মিনিটে আবেদনপত্র লিখে প্রিন্ট করে স্যারের হাতে তুলে দেন। এরপর নিজ হাতে চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে নিয়ে যান। স্বাক্ষর করিয়ে আবার সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেন।

​এডি আতিক সাহেব তাঁকে চলে যেতে বললেও তিনি যাননি। বলেন, “আমার জরুরি দরকার, আমি নিজেই ফাইল হাতে হাতে নিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনছি।” এক টেবিল থেকে আরেক টেবিল, এক রুম থেকে আরেক রুম-আবার নোট, আবার অনুমোদন, আবার চেয়ারম্যান মহোদয়ের দরবারে দৌড়। পথে আবার পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মহোদয়ের সঙ্গে দেখা। তিনি অবাক হয়ে বলেন, “আপনার কাজ এখনো হয়নি? আমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছি!” তিনি আবার সংশ্লিষ্টদের কড়া নির্দেশ দিয়ে বলেন, “বৃহস্পতিবার অবশ্যই পাবেন, আমি বলে দিয়েছি।”

​আশ্বস্ত হয়ে ফিরে এলেও বৃহস্পতিবার গেল, রবিবারও গেল- কার্ড আর এলো না। সোমবার আবার খোঁজ নিলে উত্তর আসে, “সময় লাগবে।” হন্তদন্ত হয়ে আবার বিআরটিএ অফিসে ছোটেন ওই বিসিএস কর্মকর্তা। আবার এক কর্মকর্তা থেকে আরেক কর্মকর্তা। ডিডি (অ্যাডমিন) সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তাঁকে পরিচালক (অপারেশন) স্যারের কাছে পাঠান। তিনি চেষ্টা চালান। ​শেষ পর্যন্ত জানানো হয়, সমস্যার সমাধানের জন্য ‘সিএনএস’ (CNS)-কে ই-মেইল করা হয়েছে। তারা সিস্টেমে সমস্যার সমাধান করে লাইসেন্স শাখায় পাঠাবে, তারপর কার্ড প্রিন্ট হবে।

​অথচ পুরো প্রক্রিয়ার শুরুতে সিএনএসের সিস্টেম অ্যানালিস্ট মহসিন সাহেব নিজেই বলেছিলেন, “সিস্টেমে এডিট করলেই হয়ে যাবে।​ মরার আগে কোনো একদিন হয়তো লাইসেন্সটা পাব”- এই আশায় একবুক হতাশা নিয়ে বিআরটিএ ভবন থেকে বের হন ওই কর্মকর্তা। ​ফেরার পথে কৌতূহলবশত নীলক্ষেতের এক দোকানে ঢুকে তিনি জিজ্ঞেস করেন, “ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ড প্রিন্ট করা যায়?” ​দোকানদার তৎক্ষণাৎ উত্তর দেন, “এক হাজার টাকা দিলেই করে দেব। শুধু চিপের অংশটা হবে না।” ​কথাটি শুনে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন ওই কর্মকর্তা।

​হঠাৎই তাঁর মনে পড়ে যায় বহু বছর আগের সেই পরিবহন কোম্পানির কর্মকর্তার কথা, যিনি বলেছিলেন জরিমানা দেওয়া সহজ। আর মনে পড়ে অস্ট্রেলিয়ায় দেখা সেই বাংলাদেশির কথা, যে বাধ্য হয়ে অবৈধ পথ বেছে নিয়েছিল।

​একজন নাগরিক যিনি বাংলাদেশ সরকারের ক্যাডার সার্ভিসে আট বছর ধরে কাজ করছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে- পরিচিত কর্মকর্তা, ব্যাচমেট, ইন্সপেক্টর, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, পরিচালক, সিস্টেম অ্যানালিস্ট এবং বিআরটিএ চেয়ারম্যানের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও ছয় মাসে একটি ভুল তথ্য সংশোধন করে ডুপ্লিকেট লাইসেন্স হাতে পাননি।

​এখন প্রশ্ন উঠছে, একজন ক্যাডার কর্মকর্তার যদি এই পরিণতি হয়, তবে বিআরটিএতে যাঁর একজন পরিচিত মানুষও নেই, সেই সাধারণ নাগরিকের কী হাল হয়? ​পরিচয় দিয়েও সেবা মেলেনি; পরিচয় না দিলে কী হতো, তা ভাবতেও শিউরে উঠতে হয়। যেখানে একটি বৈধ কাজের জন্য একজন নাগরিককে এতগুলো দরজায় কড়া নাড়তে হয়, এতগুলো সুপারিশ ও অনুমোদনের যাঁতাকলে পিষ্ট হতে হয়, সেখানে একসময় অবৈধ শর্টকাটকেই সাধারণ মানুষের কাছে সহজ ও স্বাভাবিক মনে হতে শুরু করে। আর রাষ্ট্রের জন্য এখানেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে বড় বিপদ।

​পরবর্তীকালে আতিকুল সাহেবের রুমে বসে ডিডি (লাইসেন্স) ইব্রাহিম সাহেব এবং সিস্টেম অ্যানালিস্ট বলছিলেন, “এই প্রিন্ট করতে মিনিমাম ৩০ হাজার টাকা লাগে। এই প্রিন্ট আমাদের রেগুলার সিস্টেমের না। সামনের সাইড একটা সিস্টেমে এবং পিছনের সাইড আরেকটা সিস্টেমে।” অর্থাৎ, প্রিন্টটি বায়োমেট্রিক বাইপাস করে করা। ​যার অর্থ পরিষ্কার- তারা চাইলে কোনো কিছুরই প্রয়োজন হয় না, নিয়ম শিথিল হয়ে যায়। আর না চাইলে দুনিয়ার সব নিয়মকানুন, দৌড়ঝাঁপ আর হয়রানির ‘হাইকোর্ট’ দেখানো হয়।

​মাসুদরা কখনো ভালো হয় না; তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে সরকারি দপ্তরে ঘুরে বেড়ায়। তাদের বিচার হয়তো সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না। ​ছয় মাসের দৌড়ঝাঁপের পরও ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্সের কার্ড হাতে না পাওয়ার, অবশেষে এই করুণ বাস্তবতা তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ক্ষোভ ও আর্তনাদ প্রকাশ করেছেন বিসিএস ক্যাডারের ঐ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা (সিনিয়র সচিব/কর্মকর্তা)।