বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬

সালাউদ্দিন আম্মারের ‘সাথী’ পদ হারানো নিয়ে মুখ খুললেন উমামা ফাতেমা


নৈতিক স্খলন, ইবাদত পালনে অনীহা, নারীদের সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত মেলামেশা, আর্থিক অনিয়ম ও সংগঠনের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।

১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ 

সালাউদ্দিন আম্মারের ‘সাথী’ পদ হারানো নিয়ে মুখ খুললেন উমামা ফাতেমা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মারকে ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সালাউদ্দিন আম্মারের রাজনৈতিক উত্থান ও জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন।

উমামা ফাতেমার দাবি, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক না থাকা অনেক ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে এসেছেন। সালাউদ্দিন আম্মারকেও তিনি এমন ব্যক্তিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেন। জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বয়ক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, এর ফলে আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে এমন কিছু ব্যক্তি প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন, যাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

পোস্টে উমামা ফাতেমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে পরিকল্পিতভাবে জনমত বা জনপ্রিয়তার ধারণা তৈরি করা সম্ভব এবং এ ধরনের প্রচারণা তরুণদের রাজনৈতিক চিন্তা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাবের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। এ প্রসঙ্গে তিনি মিয়ানমারে ফেসবুক ব্যবহারের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক প্রচারণা ছড়ানোর বিষয়টির উদাহরণ টানেন।

উমামা ফাতেমা তার পোস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস, জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক স্বার্থে অতীতের বিভিন্ন ঘটনা ও ইতিহাসকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে সালাউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা তার বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একইভাবে উমামা ফাতেমার পোস্টে উত্থাপিত রাজনৈতিক অভিযোগগুলোরও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সালাউদ্দিন আম্মার রাকসুর জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ পদ হারানোর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে।