বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করলেন আমজাদ হোসেন
২৭ নভেম্বর ২০২৫, ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ
তিন দফা দাবির মধ্যে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নকে মুখ্য করে সারাদেশে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক ক্লাস ও পরীক্ষা নেওয়া থেকে বিরত রয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষক সংগঠনগুলো।
প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক খায়রুন নাহার লিপি জানান, সরকারের দেওয়া সময়সীমার মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সরকার দ্রুত শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনে পদক্ষেপ নেবে।
শিক্ষক নেতারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে ১১তম গ্রেড দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে বহু সহকারী শিক্ষক হতাশ হয়ে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষকরা সীমিত কর্মসূচি পালন করলেও সরকার তা উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ তাদের।
দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮১ জন শিক্ষক রয়েছেন, যার মধ্যে প্রধান শিক্ষক প্রায় ৩৫ হাজার; বাকি সবাই সহকারী শিক্ষক। প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম মূলত সহকারী শিক্ষকনির্ভর হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা—যা আগামী ৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়ার কথা—এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৫ জন; এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে ১ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫৫ শতাংশের বেশি। জানা গেছে, সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেড প্রদান করলে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হবে বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। আর ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয় হবে আনুমানিক ৮৩২ কোটি টাকা।
সরকার ও শিক্ষকদের মধ্যে সমাধান না হলে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় আরও বড় অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।