প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
৩১ মে ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পারিবারিক ও রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, "আমাদের সামনে অত্যন্ত কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। এই সময়টিতে হেসে-খেলে চলে গেলে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। ক্ষতিটি হয়তো আপনার ব্যক্তিগত হবে না, ক্ষতিটি হবে দেশের এবং আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।"
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রম, সততা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন, যেখানে দেশের মানুষের কাছে 'জিয়া' ও 'বাংলাদেশ' প্রায় এক ও অভিন্ন হয়ে উঠেছিল। তিনি দেশের প্রতিটি খাতে যে আমূল পরিবর্তন ও বৈপ্লবিক উন্নয়ন এনেছিলেন, বর্তমান সরকারও সেই উন্নয়ন দর্শন ও পথনির্দেশিকা অনুসরণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে।
বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে সরকারপ্রধান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিচার ব্যবস্থা ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে, যার জীবন্ত সাক্ষী দেশের মানুষ। গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দেশের মানুষ এই ধ্বংসস্তূপ থেকে উত্তরণের জন্য বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে জয়ী করেছে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "নির্বাচনের আগে যে ইশতেহারটি ছিল বিএনপির, ১৩ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে তা হয়ে গেছে দেশের ৫২ শতাংশ মানুষের পরিকল্পনা। এটি বাস্তবায়ন করা এখন আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এই ইশতেহারে শহীদ জিয়ার খাল খনন কর্মসূচি, শিক্ষার প্রসার এবং শিল্প খাতের বৈপ্লবিক উন্নয়নের প্রতিফলন রয়েছে।"
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, শুধু মন্ত্রী বা এমপিদের পরিশ্রমে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত দলের সব স্তরের নেতাকর্মীদের একযোগে কাজ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। সরকারের নেওয়া প্রতিটি সঠিক ও জনকল্যাণমূলক কাজে সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করলেই কেবল এই সরকার পুরোপুরি সফল হবে।
সমাজে নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক মূল্যবোধের এক ধরণের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই মূল্যবোধগুলো কীভাবে পুনরায় শক্তভাবে গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও পরিকল্পনা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভায় দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য আব্দুল মঈন খান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
এছাড়াও সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ দলের বিভিন্ন স্তরের হাজারো নেতাকর্মী।