বিরোধী দলের নাম পেলেই জুলাই সনদের পথ ধরে সংবিধান সংশোধন: আইনমন্ত্রী
১ জুন ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তানিম নূর পরিচালিত বহুল প্রশংসিত চলচ্চিত্র ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এর নির্ধারিত দুটি প্রদর্শনী বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিকে কেন্দ্র করে কিছু প্রচারণার মুখে প্রদর্শনী দুটি স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা চলছে এবং ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিল্প-সংস্কৃতির সাথে জড়িত মানুষেরা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর ইউনিয়নে একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন জাতীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। তিনি নিজেই এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে রুমিন ফারহানা লিখেছেন:"‘বনলতা এক্সপ্রেস’ মুভি প্রদর্শনী বন্ধের প্রতিবাদে আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে একটি মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি হবে। উপস্থিত থাকবো আমি রুমিন ফারহানা।"
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অনুমতি নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটি চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিল। কিন্তু কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রচারণার পর ভেন্যু কর্তৃপক্ষ তাদের পূর্বানুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রদর্শনীটি স্থগিত করতে বাধ্য হয় আয়োজকেরা।
একই দিন জেলার কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে স্থানীয় তরুণদের উদ্যোগে ছবিটির আরেকটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হলেও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেটিও বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী বন্ধের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১০টি প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক সংগঠন। শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনগুলো দাবি করে, একটি মহল ধর্মীয় আবেগের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলচ্চিত্রটির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালিয়েছে, যার ফলে এই সুন্দর আয়োজনটি ব্যাহত হয়।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন, চলচ্চিত্রটি ‘বাংলাদেশ ফিল্ম সার্টিফিকেশন আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী যথাযথভাবে অনুমোদিত এবং এটি দেশ-বিদেশে প্রদর্শিত ও প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া ছবির নির্মাতা তানিম নূর ব্রাহ্মণবাড়িয়ারই একজন কৃতি সন্তান। নিজ জন্মভূমিতে তার চলচ্চিত্র প্রদর্শন করতে না দেওয়া অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ ও লজ্জাজনক।