রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬
পরীমনির ক্ষোভ •

এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি, চাইলেন বিচার


এআই দিয়ে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, মাছরাঙা টেলিভিশনের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হওয়ার পর ভিডিওটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ও সন্তানদের ছবি ঘিরে অনলাইনে হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন এই অভিনেত্রী।

১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ 

এআই দিয়ে আপত্তিকর ভিডিও ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরীমনি, চাইলেন বিচার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি। তাঁর অভিযোগ, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক হওয়ার পর পুরোনো বিকৃত ভিডিওটি নতুন করে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, মানসিক শান্তি ও পেশাগত কাজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ ঘটনায় শুধু দুঃখ প্রকাশ করলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায় শেষ হয়ে যায় না বলে মন্তব্য করেছেন এই অভিনেত্রী।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে ফেসবুক লাইভে এসে নিজের ক্ষোভ ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন পরীমনি। এর আগে একই ঘটনায় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন। ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলতে থাকায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ফেসবুক লাইভে চ্যানেলটির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পরীমনি বলেন, একটি বড় গণমাধ্যমের পেজ দীর্ঘ সময় অন্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলে সেটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর মতে, পেজ হ্যাক হওয়ার ব্যাখ্যা দিলেই পুরো ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু মানুষের আচরণেও হতাশা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তাঁর অভিযোগ, ভিডিওটি নিয়ে অনেকে এমনভাবে মন্তব্য করেছেন, যা তাঁকে বিব্রত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। এমনকি অন্যের পোস্টের মন্তব্যের ঘরেও ভিডিওটির কথিত লিংক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পরীমনি মনে করেন, যাচাই না করা বা বিকৃত কোনো ভিডিওকে কেন্দ্র করে কাউকে হেয় করা কিংবা তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভিডিওটি নিয়ে যাঁরা অযথা মাতামাতি করেছেন, তাঁদের আচরণ নিয়েও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।

শুধু ফেসবুক লাইভেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া আরেকটি পোস্টেও টেলিভিশন চ্যানেলটির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন পরীমনি। সেখানে তিনি জানান, ঘটনার পর তাঁর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। নিজের কাজ কিংবা ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলেও নেতিবাচক মন্তব্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁকে। এমনকি তাঁর সন্তানদের ছবিতেও আপত্তিকর মন্তব্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই অভিনেত্রী।

পরীমনির ভাষ্য, এ ঘটনার প্রভাব তাঁর মানসিক শান্তির পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও পড়ছে। সংশ্লিষ্ট চ্যানেল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার কথা বললেও এখনো কার্যকর অগ্রগতি দেখতে না পাওয়ায় তিনি হতাশ। তাঁর মতে, যে ঘটনা তাঁর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে, সেটির দায় এড়ানোর সুযোগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নেই।

পোস্টে চ্যানেলটির উদ্দেশে পরীমনি আরও বলেন, একটি ফটোকার্ডে দুঃখ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, এই পরিস্থিতির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার অনলাইনে নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হচ্ছেন।

এদিকে, ফেসবুক লাইভটি পরে নিজের পেজ থেকে সরিয়ে নেন পরীমনি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে তিনি সংক্ষিপ্ত একটি পোস্টে লাইভটি মুছে ফেলার কথা জানান।

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি বিকৃত ভিডিও নিয়ে এই ঘটনা আবারও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, অনলাইন হয়রানি এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের প্রশ্ন সামনে এনেছে। প্রযুক্তির সাহায্যে কারও চেহারা ব্যবহার করে মিথ্যা বা আপত্তিকর দৃশ্য তৈরি করা হলে তার প্রভাব শুধু অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত জীবনেও তার গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে।

পরীমনির বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, ঘটনার দায় নির্ধারণ এবং কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই দেখার বিষয়।