বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন বসাবে সরকার


ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা আরও সহজলভ্য করতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে ছয়টি এবং ঢাকার বাইরে ১১টি মেশিন বসানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

৭ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ণ 

ক্যানসার চিকিৎসায় ১৭টি নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন বসাবে সরকার
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা সহজ ও সুলভ করতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব মেশিনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল ও টেকনিশিয়ানদের প্রশিক্ষণের কাজও শুরু হয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন ১৭টি রেডিওথেরাপি মেশিনের মধ্যে ছয়টি ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে এবং বাকি ১১টি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাসপাতালে স্থাপন করা হবে। যন্ত্র পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য জনবল প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা বাড়ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ক্যানসারের চিকিৎসা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক হাসপাতালে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির যন্ত্র নষ্ট থাকায় রোগীরা সময়মতো প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছেন না। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন মেশিন কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ক্যানসারের মতো জটিল রোগে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে দরিদ্র রোগীদের বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সেবার মান বাড়াতে সরকার একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী দিনে এসব উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে পরিবার পরিকল্পনা নিয়েও সরকারের নতুন কর্মসূচির কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী এক বছরব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে প্রচারাভিযান চালানো হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।

কর্মসূচির আওতায় শুধু প্রচার-প্রচারণা নয়, মানুষের বাড়ি বাড়ি প্রয়োজনীয় জন্মনিয়ন্ত্রণসামগ্রী ও পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি র‌্যালি, মেলা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক আয়োজন থাকবে। ‘দু’টির বেশি সন্তান নয়, একটি হলে ভালো’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানোর কথা জানান মন্ত্রী। জেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে নানা কর্মসূচি নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তনের পাশাপাশি রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু-পরবর্তী হৃদ্‌যন্ত্রের জটিলতা বাড়ায় চিকিৎসকদের আরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মশা নিয়ন্ত্রণে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৪ হাজার ৩৫৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৮ হাজার ২৯৯ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন। অর্থাৎ হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের প্রায় ৯০ শতাংশ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।