রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬

গরু কুরবানি ইসলামের অংশ নয়: কলকাতা হাইকোর্ট


ঈদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গবাদিপশু কুরবানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশ বাতিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। আদালত মন্তব্য করেছে, গরু কুরবানি ঈদুল আজহার অবিচ্ছেদ্য অংশ নয় এবং ইসলামে এটি বাধ্যতামূলক ধর্মীয় অনুশীলনও নয়।

২৩ মে ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ 

গরু কুরবানি ইসলামের অংশ নয়: কলকাতা হাইকোর্ট
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা গবাদিপশু কুরবানি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আদেশ বহাল রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পল ও বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এ সংক্রান্ত একাধিক জনস্বার্থ মামলার আবেদন খারিজ করে দেয়।

আদালতে আবেদনকারীরা সরকারের ওই আদেশ বাতিল এবং অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ চেয়েছিলেন। তবে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। শুনানিতে আদালত পর্যবেক্ষণ দেয় যে, গরু কুরবানি ঈদুল আজহার অপরিহার্য অংশ নয় এবং ইসলামে এটি ধর্মীয়ভাবে বাধ্যতামূলকও নয়।

তবে আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। ১৯৫০ সালের পশ্চিমবঙ্গ পশু কুরবানি নিয়ন্ত্রণ আইনের ১২ নম্বর ধারায় ধর্মীয়, ওষুধ বা গবেষণার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ পশু কুরবানির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে কি না, তা দ্রুত খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করে, ২৭ ও ২৮ মে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় সময় অত্যন্ত সীমিত। এছাড়া খোলা স্থানে পশু কুরবানি নিষিদ্ধ করার শর্ত যোগ করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে আদালত।

গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার যে নির্দেশনা জারি করেছিল, সেখানে ১৯৫০ সালের আইন এবং ২০১৮ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করা হয়। ওই আইন ও রায় অনুযায়ী, ‘কুরবানির উপযুক্ত’ সনদ ছাড়া গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। মামলার শুনানিতে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য দাবি করেন, এই আইন মূলত কলকাতা ও অন্যান্য পৌর এলাকার জন্য প্রণীত হয়েছিল, পুরো পশ্চিমবঙ্গের জন্য নয়। তবে আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

কলকাতা পৌরসংস্থার পক্ষে আইনজীবী নীলোৎপল চ্যাটার্জি আদালতকে জানান, পশু জবাইয়ের জন্য তাদের পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও অনুমোদিত জবাইখানা রয়েছে। পাশাপাশি সনদ দেওয়ার জন্য নির্ধারিত কর্মকর্তাও নিয়োজিত আছেন। এ সময় আদালত মন্তব্য করে, সনদ প্রদানের সঠিক ব্যবস্থা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত করা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব। কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তা দ্রুত সমাধান করার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন বিচারপতিরা।

সূত্র- টাইমস অফ ইন্ডিয়া