হাটহাজারীতে ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বিস্ফোরণ: ২ সেনাসদস্য নিহত, আহত ১
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় বুকাভু শহরের বাগিরা এলাকার উজামা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৪ শিশুসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয় সূত্র, প্রত্যক্ষদর্শী ও চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্লাস চলাকালে হঠাৎ স্কুল ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। পুরো ভবনটি কাঠের তৈরি হওয়ায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রেণিকক্ষগুলো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে প্রাণ বাঁচাতে শিক্ষার্থীরা ভবনের ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিতে শুরু করে। অনেকে আবার মূল দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে।
স্কুলটির শিক্ষক সাইমন কাসামিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় জানান, ক্লাস চলার সময় হঠাৎ শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনতে পান তিনি। তখন কেউ ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দিচ্ছিল, আবার কেউ দরজা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে আশপাশের অভিভাবকেরাও দ্রুত স্কুলে ছুটে আসেন। অগ্নিকাণ্ডের পর স্কুলের ভেতর ও বাইরে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় নেতা প্যাট্রিস বুদুগে জানান, আগুনের আতঙ্কে শিশুরা হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পদদলনের ঘটনা ঘটে। এতে অনেকেই আহত ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
স্থানীয় সূত্রের হিসাবে, অগ্নিকাণ্ডে স্কুলের পাশাপাশি আশপাশের পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়িও পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে মোট ২৭ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছিল। পরে বিদ্রোহী গোষ্ঠী এম২৩ এক বিবৃতিতে জানায়, অগ্নিকাণ্ডে ১৯ জন মেয়ে ও পাঁচজন ছেলেসহ মোট ২৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২৯ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানায় তারা।
নিকটস্থ একটি ক্লিনিকের নার্স ক্রিস্টোফ জিগাশানে জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে সেখানে আনা হয়। তাদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়। নিহত ১৪ শিশুর সবার বয়স ১০ বছরের নিচে বলে জানান তিনি। গুরুতর আহত আরও ২৭ জনকে বুকাভুর অন্যান্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
বুকাভু পাহাড়ঘেরা ও ঘনবসতিপূর্ণ একটি শহর। সেখানে অনেক ঘরবাড়ি কাঠ দিয়ে তৈরি। অপরিকল্পিত বিদ্যুৎ সংযোগ ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে শহরটিতে প্রায়ই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত অক্টোবরেও শহরটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৪ জন নিহত হয়েছিলেন। নিহতদের অধিকাংশই ছিল শিশু। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বুকাভুতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক সময় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়।