পাসপোর্ট হারালে দ্বিতীয়বার থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা
২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্র ও চীন নতুন একটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, এ সমঝোতা দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ‘সুসংবাদ’। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে এ কথা বলেন শি জিনপিং। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মতপার্থক্য কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে। বৈঠকে শি জিনপিং জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিনিধিরা একটি নতুন যৌথ সমঝোতায় পৌঁছেছেন। শি বলেন, নতুন এই সমঝোতা দুই দেশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য ভালো খবর। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে সহযোগিতার ক্ষেত্র বাড়ানোর পাশাপাশি বিরোধের বিষয়গুলো কমিয়ে আনা প্রয়োজন।
চীনা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, উভয় পক্ষের উচিত পারস্পরিক ছাড় দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করা। এর মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তবে নতুন সমঝোতার বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি শি জিনপিং। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও বেইজিং দুই দেশের চলমান বাণিজ্যযুদ্ধের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
ফক্স নিউজকে বেসেন্ট জানান, দুই দেশের অর্থনৈতিক উত্তেজনা কমাতে যে সমঝোতাকে ‘বুসান চুক্তি’ বলা হচ্ছে, তার মেয়াদ আগে ১০ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা ছিল। এখন তা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হবে। বুধবার ওয়াশিংটনে বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেংয়ের মধ্যে আকস্মিক বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, বিদ্যমান সমঝোতার আওতায় চীন এখনো তাদের সব প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করেনি। কিছু প্রতিশ্রুতি প্রত্যাশা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়নি বলেও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে চীনের কাছে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছে উল্লেখ করে বেসেন্ট বলেন, বর্ধিত সময়ের মধ্যে চীন চুক্তির শর্তগুলো আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চীনা প্রতিনিধিদল নতুন কিছু প্রতিশ্রুতির ঘোষণা দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নতুন সমঝোতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনের কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানো এবং আর্থিক খাতে কিছু নতুন সমঝোতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। বাণিজ্যযুদ্ধের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ফলে নতুন বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাত এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছরও দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি