ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, চেরনিহিভে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর
১০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্ভাব্য বড় ধরনের বিক্ষোভ মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে লক্ষ্য করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে বিক্ষোভের জন্য জন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীদের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ ও জমায়েত ঠেকাতে পরিবহনব্যবস্থা থেকে শুরু করে আবাসিক এলাকাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাজীব চক, নয়াদিল্লি, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, প্যাটেল চক ও কাশ্মীরি গেটসহ দিল্লি মেট্রোর ৪৫টি স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া শনিবার সকাল ৪টা থেকে দুপুর ২টার মধ্যে নয়াদিল্লি ও হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছানোর কথা ছিল- এমন ২৫০টির বেশি দূরপাল্লার ও স্থানীয় ট্রেনের চলাচল বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে জনপথ-কর্তব্য পথ মোড়ের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে এসব বিধিনিষেধের মধ্যেও বিক্ষোভের পরিকল্পনা থেকে সরে আসছেন না বলে জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। তাঁর ভাষ্য, স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকেরা নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবেন।
বিক্ষোভের কারণে জনদুর্ভোগের আশঙ্কায় জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে মেট্রো ও ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধ এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা তৈরির কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিরাপত্তার বিশেষ পরিকল্পনা
দিল্লি পুলিশের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি বিক্ষোভ মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়া ঠেকানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিক্ষোভকারীদের যেন নয়াদিল্লি জেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া না হয় এবং নিষিদ্ধ এলাকা থেকে দ্রুত সরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের হিসাবে, জন্তর মন্তর, জনপথ, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় ও দিল্লি পুলিশ সদর দপ্তরকে ঘিরে প্রায় দেড় কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই এলাকায় ৬ হাজার ৫০০-এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অডিও রেকর্ডিংয়ের সুবিধাসহ ৩০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। জন্তর মন্তরে যাওয়ার সড়কগুলোতে তৈরি করা হয়েছে অন্তত সাত স্তরের ব্যারিকেড। এর কয়েকটি স্তর ঝালাই করে জোড়া লাগানো হয়েছে, যাতে সহজে ভেঙে সেগুলো অতিক্রম করা না যায়।
সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে রেকর্ড করা সতর্কবার্তাও প্রচার করা হচ্ছে। এতে অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে জমায়েত, স্লোগান, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। বিক্ষোভ প্রতিরোধে কমিউনিটি সেন্টার, মসজিদ ও আবাসিক কল্যাণ সমিতিগুলোকেও সতর্ক করেছে পুলিশ। কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে আসা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
নয়াদিল্লি ও মধ্য দিল্লির বিভিন্ন হোটেল ও লজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে অতিথিদের নিরুৎসাহিত করতে হোটেল ব্যবস্থাপকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে এয়ারবিএনবির মাধ্যমে বাসা ভাড়া দেওয়া ব্যক্তি ও সম্পত্তির মালিকদেরও বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের কাছে বাসা ভাড়া না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের আচরণ নথিবদ্ধ করার উদ্যোগ
সাম্প্রতিক বিক্ষোভগুলোতে পুলিশের অসদাচরণ ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠায় এবার নিরাপত্তা কার্যক্রমের প্রতিটি পর্যায় নথিবদ্ধ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাসের শুরুর দিকে হওয়া বিক্ষোভের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের কথিত অসদাচরণের দৃশ্য দেখা যায়। এ ছাড়া এক নারী বিক্ষোভকারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বডি ক্যামেরা দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভের পরিস্থিতি এবং পুলিশের প্রতিক্রিয়া ধারণ করতে শত শত আলোকচিত্রী ও ভিডিওগ্রাফার নিয়োগ করা হয়েছে।
কর্মকর্তাদের আশা, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে কোনো ঘটনার প্রকৃত ধারাবাহিকতা যাচাই করা, বিভ্রান্তিকর দাবি মোকাবিলা করা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তদন্তে সহায়তা নেওয়া সম্ভব হবে। এদিকে দিল্লি পুলিশ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম ও সহনশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। চিঠিতে পুলিশ সদস্যদের মানবিক দিক তুলে ধরে বলা হয়েছে, ইউনিফর্ম পরলেও একজন মানুষ তাঁর মানবিকতা হারান না। বাড়িতে তাঁর জন্যও পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষা করেন।