শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার তাণ্ডব: বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৮০+, নিখোঁজ ৩৪


ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ৮০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ৩৪ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি)। ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন হাজারো মানুষ।

২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ 

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার তাণ্ডব: বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৮০+, নিখোঁজ ৩৪
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

শ্রীলঙ্কায় ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার প্রভাবে টানা ভারী বর্ষণ, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এ পর্যন্ত ৮০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৩৪ জন।

হঠাৎ পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতে বহু এলাকার ঘরবাড়ি ভেসে গেছে। হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, নিরাপত্তাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন। অনেক এলাকা এখনও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকায় উদ্ধারকাজে চ্যালেঞ্জ বেড়েছে।

ডিএমসির বরাতে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়ার কারণে ৪৪ হাজার ১৯২ পরিবারের অন্তত ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬০৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন ৫ হাজার ২৪ পরিবারের ১৪ হাজার ৭৬৬ জন। বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ে ৪২টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং ২ হাজার ৮১০টি বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি শুক্রবার ভোরে আঘাত হানার আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল। পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং অধিকাংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছে ভূমিধসে। কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক বন্যা কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ।

প্রবল স্রোতে মোরাগাহাকান্দা, এলাহেরা ও কুমারা এলা—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস হয়েছে। ফলে মাতালে, পলোন্নারুয়া, কুরুনেগালা ও উভা প্রদেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক বাণিজ্য, কৃষি ও ত্রাণবাহী যান চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে। তিন বাহিনীর কমান্ডার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ডিএমসির মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সম্পৎ কোটুওয়েগোদা নাগরিকদের সতর্ক করে বলেন, “পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা ছাড়া বিকল্প নেই।”

এদিকে সেচ বিভাগ জানিয়েছে, কেলানি নদীর পানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। এতে রাজধানী কলম্বোসহ আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।