বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় ইউএনএইচসিআরকে ১০ লাখ ডলার দিল নরওয়ে


বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)কে ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে নরওয়ে সরকার।

১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৭ অপরাহ্ণ 

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মানবিক সহায়তায় ইউএনএইচসিআরকে ১০ লাখ ডলার দিল নরওয়ে
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলাদেশে অবস্থানরত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা সেবা জোরদারে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)কে ১০ লাখ মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে নরওয়ে সরকার। ইউএনএইচসিআর এ অনুদানকে স্বাগত জানিয়েছে।

রোববার ইউএনএইচসিআর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ২০২৫–২০২৬ মেয়াদে সংস্থাটির বৈশ্বিক বাজেটে সহায়তার অংশ হিসেবে এ অর্থায়ন এসেছে। মানবিক তহবিল সংকটের মধ্যে জীবন রক্ষাকারী কার্যক্রম চালু রাখা এবং ক্রমবর্ধমান সুরক্ষা ও মানবিক চাহিদা পূরণে এই অনুদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালে মানবিক তহবিল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে এবং প্রয়োজনীয় অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পগুলোতে ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সংকটের নবম বছরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর টিকে থাকা এবং তাদের আশা বজায় রাখতে এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। নরওয়ের এ অনুদান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। পাশাপাশি স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত তাদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরালদ গুলব্রান্ডসেন বলেন, শরণার্থী সুরক্ষার ক্ষেত্রে নরওয়ে ও ইউএনএইচসিআরের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন- যা অধিকারভিত্তিক, নীতিগত, বহুপাক্ষিক এবং ভবিষ্যৎমুখী। রোহিঙ্গা সংকটে এর অর্থ হলো এমন দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সহায়তা করা, যা মর্যাদা রক্ষা ও অধিকার নিশ্চিত করে। তিনি আরও বলেন, মানবিক নীতি অনুসরণ করে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের সুরক্ষা এবং তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনএইচসিআরের কার্যক্রমে সহায়তা করতে পেরে নরওয়ে গর্বিত।

নরওয়ে ইউএনএইচসিআরের সঙ্গে যৌথভাবে SAFE+2 কর্মসূচিতেও সহায়তা দিচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় শরণার্থীদের রান্নার জন্য পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সরবরাহ করা হয়, যা লাকড়ির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ক্যাম্প ও আশপাশের পরিবেশের ওপর চাপ হ্রাস করে। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমে।

বিশ্বব্যাপী মোট শরণার্থীর প্রায় ৭১ শতাংশই বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। বাস্তুচ্যুতির এই চাপ মোকাবিলায় শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও নিয়মিত আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউএনএইচসিআর ও তার অংশীদাররা ২০২৬ সালের জন্য হালনাগাদ যৌথ সাড়াদান পরিকল্পনা (জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান- জেআরপি) চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকে নরওয়ে রোহিঙ্গা সংকটে সহায়তা হিসেবে ইউএনএইচসিআরকে ৫ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে।

মিয়ানমারে রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।