বিরোধী দলের নাম পেলেই জুলাই সনদের পথ ধরে সংবিধান সংশোধন: আইনমন্ত্রী
১ জুন ২০২৬, ৮:০৯ অপরাহ্ণ
নিয়মিত ডায়েট, জিম আর ব্যায়াম করেও অনেকেই অভিযোগ করেন- ওজন কিছুতেই কমছে না। বরং স্থবির হয়ে আছে শরীরের পরিবর্তন। এর পেছনে শুধু খাবার বা অলস জীবনযাপন নয়, আরও গভীর একটি কারণ থাকতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যার একটি বড় কারণ হলো এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান, যাকে বলা হচ্ছে ওবিসোজিন। এই উপাদান শরীরের হজম প্রক্রিয়া, হরমোনের ভারসাম্য এবং চর্বি জমার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। ফলে শরীরে চর্বি জমা বেড়ে যায়, আর তা সহজে কমতে চায় না। গবেষণা অনুযায়ী, ওবিসোজিন শরীরে চর্বি জমা করে এমন কোষের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি চর্বি ভাঙতে সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতাও কমিয়ে দিতে পারে। এতে ধীরে ধীরে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এমনকি অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এই রাসায়নিক উপাদান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর হতে পারে শৈশব বা মাতৃগর্ভে থাকার সময়। তখন এটি শরীরের কোষ ও জিনগত কার্যক্রমেও পরিবর্তন আনতে পারে, যা ভবিষ্যতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অনেক পণ্যেই এই ধরনের রাসায়নিক থাকতে পারে- যেমন প্লাস্টিকের পাত্র, খাবারের প্যাকেট, প্রসাধনী, ডিটারজেন্ট, খেলনা এবং বিভিন্ন পরিষ্কারক সামগ্রী। এসব পণ্য নিয়মিত ব্যবহারের ফলে খাবার, পানি ও পরিবেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি নির্দিষ্ট রাসায়নিক উপাদান যেমন বিপিএ (BPA), প্যাথালেট, অ্যাট্রাজিন, অর্গানোটিন এবং পিএফওএ (PFOA) শরীরের হরমোন ও বিপাক প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। যা ওজন বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। তবে এগুলোর প্রভাব কমাতে কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন- প্যাকেটজাত খাবার কম খাওয়া, প্লাস্টিকের বদলে কাঁচ বা স্টিলের পাত্র ব্যবহার করা, গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে না রাখা, কীটনাশকযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত প্রসাধনী ব্যবহার করা।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু ডায়েট বা ব্যায়াম নয়, পরিবেশগত এই অদৃশ্য কারণগুলোর দিকেও নজর দিলে ওজন নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি সহজ হতে পারে।
সূত্র: বিবিসি বাংলা