ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি: ৪৮ ঘণ্টায় চুক্তি না হলে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’
৮ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত ও দায় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) আইন, ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনের কার্যক্রমে কণ্ঠভোটে বিলটি অনুমোদন পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করেন এবং অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
আইন অনুযায়ী, এটি ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এর কার্যকারিতা ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে প্রযোজ্য হবে।
বিলের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, বিষয় বা প্রসঙ্গের পরিপন্থি কোনো কিছু না থাকিলে, এ আইনে-
(ক) “গণঅভ্যুত্থানকারী” অর্থ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তি;
(খ) “কমিশন” অর্থ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন;
(গ) “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” অর্থ ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান;
(ঘ) “বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার” অর্থ রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড;
(ঙ) “রাজনৈতিক প্রতিরোধ” অর্থ ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে সংঘটিত কার্যাবলি।
আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য কোনো আইনের সঙ্গে অসঙ্গতি থাকলেও এই আইনের বিধানই প্রাধান্য পাবে।
মামলা প্রত্যাহার ও নতুন মামলা দায়ের বারিত।
(১) জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা উপ-ধারা (২) এর বিধান অনুসরণপূর্বক প্রত্যাহার করা হইবে এবং ধারা ৫ এর বিধান সাপেক্ষে, এতদসম্পর্কিত নূতন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত বারিত হইবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বাত্মক আন্দোলনে অংশ নেয়, যা “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
এ সময় সরকারের নির্দেশে সংঘটিত সহিংসতা ও সশস্ত্র আক্রমণের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ এবং জনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী তাদের আইনি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ আইন গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি দিয়ে ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।