অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও ভুয়া মামলা প্রত্যাহারে কঠোর সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
৭ মে ২০২৬, ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনকে আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নিয়ন্ত্রিত করতে বড় ধরনের সংস্কারের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এসব নির্বাচনের আচরণ বিধিমালায় সংশোধন এনে নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে।
ইসির অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ইসি সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আচরণ বিধিমালা ও নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার সংশোধনী খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পোস্টারবিহীন প্রচারের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা চালু করতে চায় কমিশন। এতে পরিবেশদূষণ কমবে এবং নির্বাচনি প্রচারে নতুনত্ব আসবে বলে মনে করছে তারা।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও নতুন বিধান যুক্ত করার চিন্তা করছে ইসি। কারণ আগামী দিনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি উপজেলায় সংসদ সদস্যদের জন্য কার্যালয় নির্মাণ করছে সরকার। ফলে এসব কার্যালয় ব্যবহার করে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ যেন না করা যায়, সেজন্য আচরণ বিধিমালায় নতুন ধারা ও উপধারা যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালায়ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— মনোনয়নপত্রের ফরমে পরিবর্তন, বিদেশে থাকা সম্পদের তথ্য হলফনামায় উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা এবং দলীয় মনোনয়ন বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ভোটারের স্বাক্ষর সংযুক্তির বিধান বাতিল করা।
অন্যদিকে নির্বাচনি প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের সুযোগ রাখা হচ্ছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধানও যুক্ত করবে ইসি। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় কমিশন।
মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রশাসনকে আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নির্দলীয় প্রতীকের বিধান রেখে সংসদে আইন পাস হয়েছে। সেই অনুযায়ী বিধিমালার সংশোধনী খসড়া তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তবে নির্বাচন কবে থেকে শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টার ছাড়া প্রচার চালানো সম্ভব- জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তা প্রমাণ হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সেই নিয়ম কার্যকর করার চিন্তা করছে কমিশন। তবে বিলবোর্ডে প্রচারের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন, ৪৫০টির বেশি উপজেলা পরিষদ, তিন শতাধিক পৌরসভা ও ৬১টি জেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের সময় পেরিয়ে গেছে। এছাড়া প্রায় ছয়শ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের আইনি সময়সীমা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ফলে সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারবে ইসি।
ইসি কর্মকর্তারা আরও জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে ভোটের বিধান চালু হয়েছিল। সম্প্রতি সেই বিধান বাতিল করে সংসদে পৃথক আইন পাস হয়েছে। এখন সেই আইনের আলোকে পরিচালনা ও আচরণ বিধিমালায় সংশোধন আনা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ না রাখার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছে ইসি। এতে পলাতক ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না বলে মনে করছে কমিশন।
নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পথও সহজ হবে। দলীয় মনোনয়নের প্রয়োজন থাকবে না এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের বাধ্যবাধকতাও তুলে দেওয়া হবে। ফলে আইন অনুযায়ী যোগ্য যে কেউ সহজেই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।