বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬

১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল:সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল’ পাস


ডিজিটাল যুগের অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ক্রিপ্টোকারেন্সি-ভিত্তিক জুয়া প্রতিরোধে ১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল করে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিতে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এই আইনে ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ ৭ বছরের জেল ও ৫ কোটি টাকা জরিমানার পাশাপাশি ডিজিটাল জুয়ার বিভিন্ন অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডের কঠোর বিধান রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন, ২০২৬) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের জন্য উপস্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

৩০ জুন ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ 

১৫৯ বছরের পুরোনো আইন বাতিল:সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল’ পাস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ডিজিটাল অপরাধের বিস্তার রোধ এবং দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় একটি যুগোপযোগী ও কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে জাতীয় সংসদ। মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়।

এর আগে গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করার পর তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর চূড়ান্তভাবে বিলটি পাস করা হয়। এর মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের দেড়শতাধিক বছরের পুরোনো ‘প্রকাশ্য জুয়া আইন’ আনুষ্ঠানিকভাবে রহিত হলো।

নতুন এই আইনে আধুনিক ডিজিটাল জুয়া ও অপরাধের প্রকৃতিভেদে মোট ২৪টি বিষয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল সম্পদ, ডিজিটাল জুয়া, প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, অনলাইন ও দূরবর্তী জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, লাইভ বেটিং, ক্যাসিনো বেটিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ঘোস্ট সিম এবং ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট। অপরাধের গভীরতা বিবেচনা করে আইনে ১৪ ধরনের সাজার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান যুগে ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বেটিং প্ল্যাটফর্ম এবং ভুয়া মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে ব্যাপক হারে জুয়া ও অর্থপাচার হচ্ছে। এটি তরুণ সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। পুরোনো আইনটি এসব আধুনিক অপরাধ দমনে সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়ায় এই নতুন কঠোর আইন আনা হয়েছে।

খেলাধুলায় ম্যাচ ফিক্সিং বা স্পট ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধে জড়িত থাকলে ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।জুয়ার উদ্দেশ্যে অর্থ আদান-প্রদান বা স্থানান্তর, বিদেশি জুয়া প্ল্যাটফর্মের এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুয়ার পেজ/চ্যানেল চালানো, জুয়ার সরঞ্জাম বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করা, এবং জুয়ার বিজ্ঞাপন বা স্পনসরশিপ প্রচারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের অধীনে সংঘটিত সমস্ত অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ এবং ‘অজামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অপরাধগুলোর বিচার মূলত সাইবার ট্রাইব্যুনাল কিংবা বিশেষ ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল) আদালতের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।