সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা


২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও শহীদদের স্মরণে আগামী ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ এবং ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

৫ জুলাই ২০২৬, ৮:৪০ অপরাহ্ণ 

জুলাই অভ্যুত্থান স্মরণে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশজুড়ে বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকার। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৬ জুলাইকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ এবং ৫ আগস্টকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার (৫ জুলাই) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিস্তারিত কর্মসূচি তুলে ধরেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ ও মূল অনুষ্ঠান
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারগুলোকে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এদিন ভোর ৬টায় শাহবাগে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। অনুষ্ঠানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচার হামলা ও হত্যাকাণ্ডের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য রাখবেন।

১৬ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ:প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ ও ওয়াসিম আকরামের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে আন্দোলন দেশ ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। তাই এই দিনটিকে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ হিসেবে পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রংপুর: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান।

কক্সবাজার: পেকুয়ায় শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে একই মর্যাদায় স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নিজে।

১৫ জুলাই (আলোকচিত্র প্রদর্শনী): ক্যাম্পাসে ছাত্রীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলার দিনটিকে স্মরণ করে ‘ক্যাম্পাসের ক্ষতচিহ্ন’ বা ‘প্রতিরোধের সূচনা’ নামে একটি বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। এটি চারুকলা, জাতীয় জাদুঘর বা শাহবাগ স্কয়ারের উন্মুক্ত স্থানে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

১৮ জুলাই (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস): বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামা এবং ৪ জন শহীদের স্মৃতিতে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি প্রতিবাদী সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিরোধের স্মরণে এবং সেখানে প্রায় ৮০ জন শহীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতে ওই এলাকায় একটি বড় ধরনের সমাবেশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। “জুলাই-আগস্টের এই আন্দোলন পুরো গণআন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। শহীদদের রক্ত আর ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতেই সরকারের এই ধারাবাহিক আয়োজন।”- ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, প্রতিমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।