রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’


আগামী মাসের মাঝামাঝিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে সরকার। প্রথম ধাপে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা বিমানবন্দর, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, রেমিট্যান্স ও বিভিন্ন সরকারি সেবাসহ একাধিক বিশেষ সুবিধা পাবেন।

১৮ জুলাই ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ 

আগামী মাসে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

আগামী মাসের মাঝামাঝিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করবে সরকার। প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী ডেবিট কার্ড ইস্যুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরে দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রবাসী কার্ড-সংক্রান্ত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান। প্রবাসীদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক ক্ষমতায়ন এবং উন্নত ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতেই সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। ডুয়াল কারেন্সি সুবিধাসম্পন্ন এই কার্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ও ব্যাংকিং সেবা গ্রহণও সহজ হবে। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ। এর আগে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’।

কার্ডধারীরা দেশে ও বিদেশে কমপ্লিমেন্টারি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথের মাধ্যমে দ্রুত সেবা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিট অ্যান্ড গ্রিট সুবিধা, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ছাড়, গাড়ি বুকিং এবং নির্দিষ্ট কার্ডধারীদের জন্য এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ সেবাও থাকবে। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথ, বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ছাড়, কার্ডধারীর মৃত্যু হলে বিনা খরচে মরদেহ দেশে আনার সুবিধা, প্রবাসফেরতদের পুনর্বাসন ও বীমা সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

প্রবাসীরা জমি নিবন্ধন, নামজারি, ইউটিলিটি সংযোগ, লাইসেন্স এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। পাশাপাশি রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং কার্ডের মাধ্যমে সহজে অর্থ লেনদেনের সুযোগ থাকবে। এনআইডি, পাসপোর্ট ও কনস্যুলার সেবাতেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

উপ-প্রেস সচিব জানান, আগামী মাসের মাঝামাঝিতে পরীক্ষামূলকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুনের মধ্যে ২ লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  বৈঠকে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সব বাংলাদেশি প্রবাসী যাতে পর্যায়ক্রমে এই কার্ডের আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৈঠকে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ সচিব মোখতার আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।