আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মিথিলা • নিউইয়র্কে গবেষণা ও শিক্ষকতায় মিথিলা
৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ণ
সবার জন্য মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং রাজধানীর ওপর জনসংখ্যার চাপ কমাতে বিকেন্দ্রীভূত উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি বাসস্থানকে টেকসই করতে হলে সেখানে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, সড়ক ও গণপরিবহন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন নিশ্চিত করা সহজ কাজ নয়। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে।
দেশের নগরায়ণ পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার চাপ ক্রমেই বাড়ছে। অনেক শহরেই ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মানুষ বসবাস করছেন। এ পরিস্থিতিতে সবার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য কেবল বড় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন নয়; বরং দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে উন্নয়নের মূল ধারায় যুক্ত করা। এ জন্য ভারসাম্যপূর্ণ নগরায়ণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, রাজধানী ও বড় শহরগুলোর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়িয়ে শহরমুখী মানুষের চাপ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, দেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নের চাপ কমিয়ে অন্যান্য অঞ্চলেও পরিকল্পিত বসতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থা করা সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সীমিত আয়ের মানুষের বাসস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারেরও অংশ। নাগরিকদের জন্য মৌলিক সেবাসম্পন্ন বাসস্থান নিশ্চিত করতে ব্লকভিত্তিক আবাসনব্যবস্থাকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরি এবং নির্ধারিত অঞ্চলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১ নম্বর অভীষ্ট- টেকসই নগর ও জনবসতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনেও সহায়ক হবে। নগরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কঠিন বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। এ ক্ষেত্রে আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যে আবাসন খাতেও নানা চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের গৃহীত পরিকল্পনাগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও বাসযোগ্য আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য বাস্তবে রূপ নেবে।