শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

২০ জন শ্রমিকেও সম্ভব ট্রেড ইউনিয়ন—নতুন অধ্যাদেশ জারি


সরকার শ্রম আইন সংশোধন করে গেজেট প্রকাশ করেছে, যেখানে ন্যূনতম ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন করার সুযোগ রাখা হয়েছে। শ্রমিকসংখ্যার ওপর নির্ভর করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের জন্য নির্দিষ্ট শ্রমিকসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কালো তালিকাভুক্তি নিষিদ্ধ, মালিকের প্রভাব সীমিতকরণ এবং পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণের নতুন বিধানও যুক্ত হয়েছে।

১৮ নভেম্বর ২০২৫, ৭:০৮ অপরাহ্ণ 

২০ জন শ্রমিকেও সম্ভব ট্রেড ইউনিয়ন—নতুন অধ্যাদেশ জারি
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কলকারখানায় ন্যূনতম ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের বিধান রেখে শ্রম আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। সোমবার (১৭ নভেম্বর) লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কমপক্ষে ২০ জন শ্রমিক একত্র হয়ে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রির আবেদন করতে পারবেন। শ্রমিকসংখ্যার ভিত্তিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় শ্রমিকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী—

২০–৩০০ শ্রমিক: ন্যূনতম ২০ জন

৩০১–৫০০ শ্রমিক: ৪০ জন

৫০১–১৫০০ শ্রমিক: ১০০ জন

১৫০১–৩০০০ শ্রমিক: ৩০০ জন

৩০০১ জনের বেশি: ৪০০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করা যাবে

আগের আইনে কোনো কলকারখানায় বিদ্যমান শ্রমিকের ২০ শতাংশের সম্মতি প্রয়োজন হতো। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে এ বিধান পরিবর্তন করে নির্দিষ্ট স্থিরসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন ২০ জন শ্রমিকও ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ পাচ্ছেন।

অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, কোনো শ্রমিক বা ইউনিয়নের সদস্য চাকরি হারালে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা যাবে না। মালিকপক্ষ শ্রমিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না এবং কোনো বিদ্যমান ইউনিয়নের কর্মকর্তাদের পক্ষপাতমূলকভাবে বরখাস্ত করাও নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা যদি জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম—প্রগতি–তে অংশ নিতে আগ্রহী হন, তবে তাদের ভবিষ্য তহবিল (প্রভিডেন্ট ফান্ড) করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না। স্কিমে অংশগ্রহণে মালিক ও শ্রমিক উভয়েই ৫০ শতাংশ করে চাঁদা প্রদান করবেন। তবে কোনো সদস্য স্কিমে থাকতে না চাইলে লিখিতভাবে অব্যাহতির আবেদন জানাতে হবে।