প্রধানমন্ত্রী বেরিয়ে দেখলেন রাস্তায় কুরবানির বর্জ্য, দুই কর্মকর্তা বরখাস্ত
৩১ মে ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থাকাকালে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসাংঠনিক সম্পাদকের পদে থাকা মোস্তাক মিয়া তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ আমাদের নিজস্ব রাজস্বের টাকা ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। আরেকজন হাসনাত আবদুল্লাহ, তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো সমন্বয়ের অবস্থা। তারা চেয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের রাজনীতি, কিন্তু তাদের মধ্যে সেটা ছিল না।” তাঁর এই ৫১ সেকেন্ডের বক্তব্যটি দ্রুত নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এই বক্তব্যের পর সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের ফেসবুক পেজে লাইভে এসে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ওনাকে (প্রশাসক) কে বসিয়েছে এই পদে? কোন অর্থ এডিপি আর কোনটি রাজস্ব-এটা ওনাকে জানতে হবে। আমি মন্ত্রণালয় থেকে সব উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। কুমিল্লা জেলা পরিষদের মাধ্যমে মুরাদনগর ও দেবিদ্বারেও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব টাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিধি মোতাবেক ব্যয় করা হয়েছে, যার নথি জেলা পরিষদেই আছে।”
অপরদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর ফেসবুক পোস্টে বিষয়টিকে স্পষ্ট মিথ্যাচার উল্লেখ করে দুটি অসত্য তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান: ১. এই বরাদ্দ জেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে দেওয়া হয়নি। এটি স্থানীয় সরকার বিভাগের এডিপি প্রকল্পের বিশেষ বরাদ্দ, যা জেলা পরিষদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। এছাড়া দেবিদ্বারের জন্য বরাদ্দ ১০ কোটি নয়, ছিল ৫ কোটি টাকা। ২. এই অর্থ ব্যক্তি হিসেবে তাঁরা নেননি, বরং মোট ৪২টি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই অর্থ খরচ করা হয়েছে যার খাতভিত্তিক ব্যয়ের বিবরণীও তিনি সংযুক্ত করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “বক্তব্যটি শুনলে মনে হবে, টাকাটা আমরা নিজেরা পকেটস্থ করেছি। রাজস্ব বরাদ্দ ও এডিপি বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝে একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিলেন।” তিনি জানান, পরবর্তীতে এ বিষয়ে প্রশাসক মোস্তাক মিয়াকে ফোন করা হলে তিনি স্বীকার করেছেন যে অর্থটি উন্নয়ন কাজের জন্যই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং সাংবাদিকরা হয়তো তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি প্রকাশ করেনি।
দুই নেতার প্রতিবাদের পর রাতে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া তাঁর আগের বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম করেন। তিনি বলেন, “নিজস্ব রাজস্ব তহবিল আর এডিপির বিশেষ বরাদ্দ সবই সরকারি টাকা। তবে ওই দুই উপজেলায় বিশেষ বরাদ্দে নেওয়া সব প্রকল্পগুলো তদন্ত করা হবে। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”