শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

দেশজুড়ে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি এনসিপির


রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ভোটগ্রহণ চলাকালে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল, পোলিং এজেন্টদের বাধা, ব্যালট ছিনতাই ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি)। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্বাচন বয়কট বা প্রত্যাখ্যানেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দলটি।

১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ 

দেশজুড়ে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ, কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি এনসিপির
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দুইটায় রাজধানীর বাংলামোটরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মনিরা শারমিন এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সারাদেশের পরিস্থিতির ওপর তারা নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন। প্রয়োজনে দল নির্বাচন বয়কট বা ফলাফল প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

মনিরা শারমিন অভিযোগ করেন, ঢাকা-১৮ আসনের উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ধানের শীষ প্রতীকের পোলিং এজেন্টরা দলীয় কার্ড ঝুলিয়ে ভোটকক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা নির্বাচনী বিধিমালার পরিপন্থী। একই আসনের খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জের জান-ই-আলম স্কুল কেন্দ্রে নারী ভোটারদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগও ওঠে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে এক কক্ষে একাধিক পোলিং এজেন্ট থাকার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, যদিও বিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থীর পক্ষে একটি কক্ষে একজন এজেন্ট থাকার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসনে পোলিং এজেন্ট অনুপস্থিত থাকার সুযোগে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। “এই অভিযোগ সত্য হলে এর দায় তারেক রহমানকে নিতে হবে,” বলেন তিনি।

ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে এনসিপি প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মনিরা শারমিন। পাবনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর এজেন্টকে কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনাও তুলে ধরা হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে এনসিপি প্রার্থী মো. আতাউল্লাহর চিফ এজেন্টকে জোর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নোয়াখালীর হাতিয়ায় সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। সেখানে এনসিপি প্রার্থী হান্নান মাসউদের স্ত্রী ও ভাইকে মারধর এবং মোবাইল ফোন ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক মিরাজ উদ্দিন হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মুন্সীগঞ্জ-৩ ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। গোপালগঞ্জে দুই আনসার সদস্যসহ এক শিশু আহত হয়েছেন। শেরপুর-১ আসনে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে এবং পরে সিল মারা শতাধিক ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনে একাধিক ভোটার অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রে গিয়ে তারা জানতে পারেন তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। টাঙ্গাইল-৮ আসনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল মারছেন এমন অভিযোগও তোলা হয়। পিরোজপুর-৩ আসনে ভোটারদের জোর করে নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া সোনারগাঁওয়ে ভুয়া পোলিং এজেন্টের উপস্থিতি, নাটোর ও যশোরে সাংবাদিক ও সমর্থকদের ওপর হামলা, গাজীপুরে নারী ভোটারদের মারধর এবং মেহেরপুরে বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার ও এজেন্টদের বাধা দেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে প্রত্যাশিত দায়িত্বশীল আচরণ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, প্রার্থীরা লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো সমাধান মিলছে না।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন বা অভিযুক্ত রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।