সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬

রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক


রাজনীতি ও সমাজে নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমান অংশগ্রহণ নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী, তবে বক্তব্যটি খণ্ডিতভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রিজওয়ানা হাসান।

৬ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ 

রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজনীতি ও সমাজে নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সমান অংশগ্রহণ নিয়ে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে তাঁর বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে প্রচার করে ভিন্ন অর্থ দাঁড় করানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন রিজওয়ানা হাসান।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বিগত নির্বাচনে নানা ধরনের প্রকৌশল বা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’য়ের অভিযোগ ইতোমধ্যেই তারা তুলে ধরেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে গতকাল আমরা একটি রাজসাক্ষী পেয়েছি, যিনি সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। সরকারের কাছে দাবি থাকবে, তাঁকে দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হোক।”

এর আগে একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজনীতির এমন একটি অংশ রয়েছে যারা নারীবাদ, নারীর ক্ষমতায়ন ও সমান অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে। সেই শক্তি যেন কখনও মূলধারায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে সমাজের সবাইকে কাজ করতে হবে। এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, তিনি একটি রাজনৈতিক দলকে ‘মেইনস্ট্রিম হতে না দেওয়ার’ কথা বলেছেন।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিকেলে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রচার করে নির্বাচন প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে নানা কটূক্তির বিষয়টি তিনি কীভাবে দেখেন। এর উত্তরে তিনি বলেন, যারা এসব কটূক্তি করেছে তাদের বিরুদ্ধে নারী সমাজ যেমন প্রতিবাদ জানিয়েছে, তেমনি সরকারও এ বিষয়ে কথা বলেছে।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল যেসব উগ্রবাদী শক্তি নারীদের নিয়ে কটূক্তি করেছে, তারা যেন সমাজে প্রাধান্য বিস্তার করতে না পারে, সে বিষয়ে নারী সমাজকে সচেতন থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমি বলেছি যারা কটূক্তি করেছে, সেই উগ্রবাদী শক্তি যেন মেইনস্ট্রিম না হয়, সে বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। এসব কটূক্তিকারী শক্তিকে মেইনস্ট্রিম হতে দেয়নি।” এদিকে তাঁর বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে।