শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

“আমরা কথা কম বলতে চাই, কাজ বেশি করতে চাই”-আমীর খসরু


অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগাম কোনো বক্তব্য দেওয়ার চেয়ে তার অগ্রাধিকার হবে কাজের ওপর মনোনিবেশ করা। “আমরা কথা কম বলতে চাই, কাজ বেশি করতে চাই”—এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ফলমুখী শাসন ব্যবস্থার প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ 

“আমরা কথা কম বলতে চাই, কাজ বেশি করতে চাই”-আমীর খসরু
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রোববার রাজধানীর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তিনি একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করছেন।

আমীর খসরু স্পষ্ট করে জানান, তাৎক্ষণিক জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার পরিবর্তে তার দৃষ্টিভঙ্গি হবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিষয়সমূহ সতর্কভাবে পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তিনি বলেন, “আমি মাত্রই এসেছি। আগেভাগেই বেশি কথা বলে কোনো লাভ নাই। আমাকে থিতু হতে দিন, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে দিন। যথাসময়ে সবকিছু জানানো হবে।”

মন্ত্রী জানান, সদ্য দায়িত্ব গ্রহণ করায় তিনি এখনো মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি, বিদ্যমান অঙ্গীকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জগুলো বোঝার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। অনুমাননির্ভর বক্তব্য না দিয়ে তথ্যভিত্তিক ও প্রমাণনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি। পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের পরই অর্থবহ নীতিগত সিদ্ধান্ত জানানো সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, পর্যালোচনা প্রক্রিয়া শেষ হলে স্বচ্ছতা ও সময়োপযোগী যোগাযোগ বজায় রাখা হবে। তিনি বলেন, “উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। আগে পরিস্থিতি বুঝে নিয়ে তথ্যের ভিত্তিতে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ।” উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি বা বাস্তবায়নে বিলম্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব বিষয় প্রশাসনিক কাঠামোর অংশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই দিন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এসব বিষয়ে সতর্ক পর্যালোচনা ও আলোচনা প্রয়োজন। সবকিছু খতিয়ে দেখে আমরা আরও তাৎপর্যপূর্ণভাবে কথা বলবো।” অপর্যাপ্ত মূল্যায়ন ছাড়া মন্তব্য করলে ভুল ধারণা সৃষ্টি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন শেষে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য প্রদানেই তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। 

সবশেষে মন্ত্রী বলেন, “শুধু বলার জন্য কিছু বলা আমি সঠিক মনে করি না; বরং প্রয়োজন বস্তুনিষ্ঠ ও অর্থবহ বক্তব্য।”