পহেলা বৈশাখ জাতিসত্তা ও সংস্কৃতির অনন্য প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০২ পূর্বাহ্ণ
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যাই বেশি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM) এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির খবর নিশ্চিত করে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংস্থার প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, গত ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থেকে ট্রলারটি আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মাঝসমুদ্রে পৌঁছানোর পর ট্রলারটি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, প্রচণ্ড বাতাস এবং উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়।
জানা গেছে, ট্রলারটিতে প্রায় ২৮০ জনের মতো যাত্রী ছিল। এর মধ্যে ১৫ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর এবং কিছু ক্ষেত্রে ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে টিকে থাকা অবস্থায় মাত্র কয়েকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজ বাকি ২৫০ জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আশাব্যঞ্জক খবর পাওয়া যায়নি।
বেঁচে ফেরা কয়েকজনের বর্ণনা থেকে জানা যায়, পাচারকারীরা ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাদের ট্রলারে তুলেছিল। ট্রলারটি যাত্রা শুরুর কয়েক দিন পরই সাগরের বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে। অতিরিক্ত যাত্রীর ভারে ট্রলারটি টালমাটাল হয়ে পড়লে পাচারকারীরা যাত্রীদের মাছ রাখার খোন্দলে ঢুকতে বাধ্য করে। অক্সিজেনের অভাব এবং প্রচণ্ড ভিড়ে সেখানে অনেক যাত্রী দমবন্ধ হয়ে মারা যান বলে ধারণা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত বিশাল ঢেউয়ের তোড়ে ট্রলারটি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়।
সংস্থা দুটির বিবৃতিতে এই ঘটনাকে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি এবং টেকসই সমাধানের অভাবের এক করুণ প্রতিফলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়: "মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সহিংসতা এবং বাংলাদেশে শরণার্থী ক্যাম্পগুলোর মানবিক সহায়তার ঘাটতি মানুষকে এমন বিপজ্জনক পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে। পাচারকারীদের ভুল তথ্য ও উন্নত জীবনের মিথ্যা আশ্বাস অসহায় মানুষদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।"
বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রোহিঙ্গাদের জীবন রক্ষাকারী সহায়তা নিশ্চিত করতে তহবিল বৃদ্ধির জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সাগরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ যখন উৎসবমুখর পরিবেশে নববর্ষকে বরণ করে নিচ্ছে, তখন এই শোকাবহ ঘটনা মিয়ানমার সংকটের মূল কারণগুলো দ্রুত সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। সম্মিলিত ও জোরালো কূটনৈতিক উদ্যোগ ছাড়া এমন বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা এবং প্রাণের অপচয় রোধ করা সম্ভব নয় বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।