বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিতে সম্মত না হলে দেশটিকে ‘সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হবে’ বলে হুমকি দেন তিনি।
স্থানীয় সময় রোববার (৫ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সাক্ষাৎকারে এবিসি নিউজের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক প্রতিবেদক রাচেল স্কট জানতে চান, ইরানকে দেওয়া দুই থেকে তিন সপ্তাহের সময়সীমা এখনো বহাল আছে কি না। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এটি কয়েক সপ্তাহ নয়, কয়েক দিনের বিষয় হওয়া উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “ইরান তছনছ হয়ে গেছে, একেবারে তছনছ। প্রতিদিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।” ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটিকে প্রতিদিন নতুন করে সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো গড়ে তুলতে হচ্ছে।
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার সম্ভাবনা নিয়ে যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে, তখনই এমন মন্তব্য করেন তিনি। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আগ্রাসনের কয়েক দিন পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী-এ জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করে। দেশটি জানায়, হামলাকারীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এ পথ ব্যবহার করতে পারবে না।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ এই প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।
হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে গত কয়েক সপ্তাহে ইরানকে একাধিকবার আলটিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। অন্যথায় বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকিও দেন তিনি।
রোববার সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প নতুন সময়সীমা নির্ধারণ করেন। তিনি লেখেন, “মঙ্গলবার, পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ৮টা!”- যা তেহরানের সময় অনুযায়ী বুধবার মধ্যরাত। একই দিন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-কে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তার আলটিমেটামের মধ্যে ইরান কোনো পদক্ষেপ না নিলে তাদের কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সেতু অক্ষত থাকবে না।
ট্রাম্পের এই হুমকিকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাশিয়া ও চীন সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেলে তা বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।