বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

মালয়েশিয়া সফরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী: শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রত্যাশা


মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে এই উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক সফর।

৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ 

মালয়েশিয়া সফরে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী: শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রত্যাশা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর-এ পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকদের মতে, প্রায় দুই বছর ধরে স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার দ্রুত চালু করাই সফরের মূল উদ্দেশ্য। শ্রমবাজার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালু হবে তা স্পষ্ট হবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর।

কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে দেশটিতে অবস্থান করছে। সফরকালে তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে গুরুত্ব পাবে।

এর আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এই সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানা সমস্যা, বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়টিও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনায় আসবে। তিনি বলেন, প্রবাসী কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

 এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সমস্যার সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে। এই স্থবিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দাতো আমিন নুর-এর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠে, যারা কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেছিল।

যদিও মালয়েশিয়া ইতোমধ্যে ১৪টি সোর্স দেশ থেকে সিন্ডিকেটবিহীনভাবে শ্রমিক নিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, তবুও বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ এখনো বন্ধ রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানিকারকদের আশঙ্কা, শ্রমবাজার পুনরায় চালু হলে পুরোনো চক্রটি আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে এবং নতুন করে এজেন্সি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, সরকারের কঠোর নজরদারি না থাকলে একজন কর্মীর বিদেশযাত্রার ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা তুলতে একজন শ্রমিকের আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে।