মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

১০০ টাকা রিচার্জে মিলছে মাত্র ৬২ টাকার সেবা, কর কমাতে আসছে ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন’


টেলিকম ও আইসিটি খাতে উচ্চ করের বোঝা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন ও খরচ কমাতে সমন্বিত ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ 

১০০ টাকা রিচার্জে মিলছে মাত্র ৬২ টাকার সেবা, কর কমাতে আসছে ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন’
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

টেলিকম ও আইসিটি খাতের গ্রাহকদের কাঁধ থেকে বিদ্যমান উচ্চ করের বোঝা নামাতে অচিরেই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

তিনি বলেন, দেশের টেলিকম ও আইসিটি খাতে বিদ্যমান উচ্চ করহার কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এই খাতে বিভিন্ন স্তরে করহার প্রায় ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত, যা বিশ্বে অন্যতম বেশি। একই সঙ্গে দেশের ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাতও কম। তাই উভয় দিক বিবেচনায় নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে কাজ চলছে।

উপদেষ্টা বলেন, টেলিকম খাতে করের চাপ সরাসরি গ্রাহকের ওপর পড়ে। একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে প্রকৃতপক্ষে তিনি মাত্র ৬২ টাকার সেবা পান, বাকি ৩৮ টাকা কর হিসেবে চলে যায়। এই চাপ কমিয়ে গ্রাহককে আরও সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।

তিনি আরও জানান, দেশে টেলিকম অবকাঠামোতে একাধিক ব্যাকবোন বিদ্যমান থাকায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা আলাদা আলাদা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছে। এ পরিস্থিতিতে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাকবোন’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে, যাতে সব অপারেটর সমান সুবিধা পায় এবং সেবার মান ও খরচ -উভয়ই উন্নত হয়।

কানেক্টিভিটির গুরুত্ব তুলে ধরে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি হলো শক্তিশালী সংযোগব্যবস্থা। সড়ক ও বন্দর যেমন বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য, তেমনি ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট অপরিহার্য। আগামী পাঁচ বছরে সরকারের আইসিটি খাতের উন্নয়ন তিনটি মূল স্তম্ভের ওপর নির্ভর করবে- কানেক্টিভিটি, নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক সেবা। এর মধ্যে ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি’ বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি নাগরিক একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আসে।

ডিজিটাল ওয়ালেট ও লেনদেন ব্যবস্থার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে, যেখানে পরিচয়, আর্থিক লেনদেন ও বিভিন্ন সরকারি সেবা একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণরা ইতোমধ্যে উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও সাফল্য পাচ্ছে। তাদের জন্য প্রয়োজন সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট এবং সহায়ক নীতিমালা। বর্তমানে আইসিটি ও টেলিকম খাত থেকে দেশের জিডিপিতে ২ থেকে ৪ শতাংশ অবদান আসছে, যা ভবিষ্যতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার, বেসরকারি খাত ও উদ্যোক্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি সব সমস্যা একদিনে সমাধান সম্ভব নয় জানিয়ে ধাপে ধাপে সংস্কারের আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।